মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) থেকে ঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কোন রকম সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নামে-বেনামে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রায় এক ডজন প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০০৩ সাল থেকে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই তাদের শিক্ষার্থীদেরকে উপজেলার বিভিন্ন এমপিও ভুক্ত বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র কাগজ-কলমে ভর্তি দেখিয়ে বই সংগ্রহ সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দিয়েছেন। একপর্যায়ে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্যে এমপিও ভুক্ত বিদ্যালয়গুলোতে প্রতি বছরই শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমতে থাকে। এমনকি গত তিন বছর ধরে পৌর সদরের একাধিক বিদ্যালয় ব্যাপক শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে যায়। এদিকে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে লক্ষমাত্রার চেয়ে বহুগুণে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় চলতে থাকে রমরমা বাণিজ্য। আর এ সুযোগে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছরই বাড়াতে থাকে শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন। এতে বেকায়দায় পড়ে যায় নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। তাই এবছর ভুক্তভোগী অভিভাবকদের চাপে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধে উপজেলার এমপিও ভুক্ত বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষকরা সম্মিলিত হয়ে অনুমোদনহীন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের শুধু কাগজ-কলমে ভর্তি দেখিয়ে বই সহ অন্যান্য সকল সুবিধা না দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের প্রতি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও নতুন বই না পেয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এসব অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন রয়েছে নীরব। প্রশাসনের এ নীরবতাকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতাকে ঘিরে। এদিকে শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠান ছেড়ে এমপিও ভুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলেও তাদেরকে আটকে দিচ্ছেন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, তাদের সন্তানদের বিভিন্ন পরীক্ষার সনদ ও মার্কসীট আটকে রেখে অন্যত্র ভর্তি হতে বাধা দিচ্ছেন তারা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান স্কুল এন্ড কলেজের স্বত্বাধিকারী ও চাটমোহর মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মাহবুবুল আলমের সাথে কথা বললে তিনি শিক্ষার্থীদের বই না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে মতের গড়মিল হওয়ায় এই মুহূর্তে তার প্রষ্ঠিানের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া যাচ্ছেনা। তবে শীঘ্রই এর সমাধান করে বই দেওয়া হবে বলে তিনি আশা করেন। সদ্য জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হওয়া ভাঙ্গুড়া মডেল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জানান, অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে। এতে উপজেলায় সার্বজনীন শিক্ষা বিস্তারে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। তাই এবছর থেকে কোন অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শুধুমাত্র কাগজ-কলমে ভর্তি দেখিয়ে বই দেয়া থেকে উপজেলার ২১টি বিদ্যালয় বিরত রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ২১টি এমপিও ভুক্ত বিদ্যালয়ে বছরের শুরুতেই বই দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি অনুমোদন সংক্রান্ত কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় উপজেলার প্রায় এক ডজন প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন হাজারের মত শিক্ষার্থীকে বই দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে তারা এমপিও ভুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই বই পেয়ে যাবে। উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা বলেন, আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। তাই বিষয়টি সমাধান করতে একটু সময় লাগছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author