পাবনা-৩ আসনের হিসেব পাল্টে দিতে পারেন ইঞ্জি: আব্দুল আলীম

নিজস্ব প্রতিনিধি : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী এখনও প্রায় ১টি বছর। এরই মধ্যে পাবনা-৩ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে এক ডজনেরও বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী জনসংযোগ সহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রার্থীতার বিষয়ে উচ্চ প্রচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) এলাকা। প্রচারনার মাধ্যমেই তারা ক্ষান্ত হচ্ছেন না দিচ্ছেন এ এলাকার উন্নয়নে আগাম প্রতিশ্রুতি।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের বসবাসের এ আসনটিকে অনেকেই লক্ষ্মি আসন হিসেবে অবহিত করে থাকেন। কারন স্বাধীণতার পর থেকে এ আসনে যে রাজনৈতিক দল বিজয়ী হয়েছে সেই দল বরাবরই সরকার গঠন করেছে। এছাড়া পরপর দ্বিতীয় বারের মত কোন রাজনৈতিক দলই এ আসনে জয় লাভ করতে না পরলেও সর্বশেষ নির্বাচন টি ছিল একটু ভিন্ন আঙ্গিকের। রাজনৈতিক ভাবে বৃহৎ দল বিএনপি গত নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করায় অনেকটা এক তরফা নির্বাচনের সুবাদে পুন: নির্বাচিত হন বর্তমান সংসদ মো. মকবুল হোসেন।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপি এ আসনটি পুণরুদ্ধারে এবং পুর্বের ধারাবাহিক রীতি অনুযায়ী সরকার গঠনে মরিয়া হয়ে আছে। বিএনপিতেও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ও দলীয় গ্রুপিং অব্যহত থাকলেও দলীয় হাই কমান্ড মনোনিত প্রার্থির পক্ষেই কাজ করতে সবাই অঙ্গিকারবদ্ধ এমন কথা সকল নেতা কর্মীই বলছেন। তবে সাধারন মানুষের মাঝে সংশয় আর উৎকণ্ঠার বিষয়টি হল সুষ্ঠু একটি নির্বাচন। মানুষের ভোটাধিকার সুষ্ঠু ভাবে প্রয়োগ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন পরিবেশ বজায় থাকলে এ আসনটিতে পরিবর্তনের সুর বাজতে পারে বলেই অনেকের ধারনা।

বর্তমানে পাবনা-৩ আসন দলীয় গ্রুপিং অনেকটা প্রকাশ্য আকার ধারন করেছে। এক্ষেত্রে বৃহৎ চাটমোহর উপজেলা সহ অপর দুই উপজেলায় উভয় দলেই দলীয় গ্রুপিং প্রকাশ্য আকার ধারন করেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে এটি চলমান থাকলে উভয় দলের জন্য বোমারিং হয়ে উঠবে।

বর্তমানে সব কিছু ছাপিয়ে রাজনৈতিক মেরু করনের হিসেব নিকাশে এই আসনের আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে গ্রাম গঞ্জ সহ সর্বত্র এক যোগে প্রচার প্রচারণায় সরকারের সাফল্য লক্ষ নিয়ে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে চলেছেন সাবেক কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল আলীম। ইতিমধ্যে তিনি এ সকল এলাকার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের ধারনা ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন যদি বিশেষ কোন কারনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে ব্যর্থ হন সেক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে অনেকটাই এগিয়ে আছেন তিনি। এক্ষেত্রে শুধু তিনিই পারেন পাবনা-৩ এলাকার সকল হিসেব পাল্টে দিতে। ইতিমধ্যে এ আসনটিতে অনেক প্রার্থির ভীরে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ও যোগ্য প্রার্থি হিসেবে দাড় করিয়ে ফেলেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রেও তার রয়েছে হেবিওয়েট নেতৃবৃন্দের শক্ত সমর্থন।

এছাড়া দলটির হাইকমান্ড কর্তৃক প্রকাশিত বার্তায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। দলের সভাপতি ছয়টি মাঠ জরিপের ভিত্তিতে দুটি পৃথক পৃথক তালিকা তৈরি করেছেন। একটি তালিকা করা হয়েছে, যদি বিএনপি বেগম খালেদার নেতৃত্বে নির্বাচন করে তার জন্য। অন্য তালিকা যদি বিএনপি খন্ডিত ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে। দুটি তালিকাতেই দলের সভাপতি শেখ হাসিনার জন্য তিনটি আসনে প্রার্থীতার কথা বলা হয়েছে। একটির বেশি আসনে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কাউকে রাখা হয়নি। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সবাই একটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আওয়ামী লীগের তৈরি করা তালিকায় তরুণদের জয়জয়কার। অন্তত ৭৫টি আসনে তরুণদের মনোনয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে দির্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আ’লীগের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সমালোচনামুলক কর্মকান্ডের জন্য দলটির হাই কমান্ড যদি যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যর্থ হয় তাহলে আগামী নির্বাচনে এ আসনটিতে জয়ের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

তবে ভোটের রাজনীতিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে উভয় দলের অংশগ্রহন মূলক সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও পেশী শক্তিমুক্ত একটি উৎসব মূখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমনটা প্রত্যাশা করছেন এলাকার সর্বস্তরের শান্তি কামি মানুষ।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author