ভূয়া মামলায় জড়িয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে আতংক সৃষ্টি- ভূয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ও হয়রানীর প্রতিবাদে চাটমোহরের বরদানগরে ৩ শতাধিক দরিদ্র অসহায় মানুষের সাংবাদিক সম্মেলন

চাটমোহর অফিস, ১২ জানুয়ারী ঃ ভূয়া মামলায় জড়িয়ে, ভূয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ও গ্রামবাসীর মধ্যে আতংক সৃষ্টির প্রতিবাদে ১২ জানুয়ারী শুক্রবার দুপুরে পাবনার চাটমোহরের বরদানগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী গ্রাম বাসী। ছাইকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় উক্ত গ্রামের ভূক্তভোগীরাসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্য ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কে বা কাহারা এলাকার শান্তি বিনষ্ট করতে সম্প্রতি ঢাকার গোন্ডারিয়া থানার মামলায় নং ৯৬/২/১৭ এবং গুলশান থানার মামলা নং ২৮/২/১৭ দেখিয়ে বরদানগর গ্রামের বাছাদ, মিজানুর, টুটুল, তারিকুল ইসলাম, রুবেল ও মিলন মোল্লাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক উক্ত দুই থানায় মামলা সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে উক্ত দুটি থানায় এ ক্রমিক নং দ্বয়ে কোন মামলা না থাকায় এসকল মামলা ভূয়া এবং সৃজনকৃত প্রমানিত হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেয় এবং মামলা নিষ্পত্তি করে। এছাড়া এ ধরণের আরেকটি মামলায় ভূয়া ওয়ারেন্ট ইস্যু করে বিলকিস, দবির, শাহীন, রেজাউল, জমসের, মিরু, কালুসহ অনেককে ভূয়া মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর অপচেষ্টা করেছে। কথিত মামলা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে অত্র এলাকার কোন মানুষ জড়িত না থাকলেও মিথ্যা মামলা দেখিয়ে ভূয়া ওয়ারেন্ট চাটমোহর থানায় প্রেরণ করে। থানা কতৃপক্ষ ওয়ারেন্ট গুলো বিচার বিশ্লেষণ না করেই আসামীদের আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। কুচক্রী মহল কর্তৃক এমন ভূয়া ওয়ারেন্ট মূলে ফের আটকের আশংকায় রয়েছেন এলাকার অধিকাংশ মানুষ।

এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগ, জমা জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে উক্ত গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে আব্দুল ওয়াহাব এবং তার দুই ছেলে ওলী উল্লাহ (শিক্ষানবীশ উকিল) ও সেনাবাহিনীতে কর্মরত অপর ছেলে আরিফ এ হয়রানী মূলক কাজ গুলো করে যাচ্ছে। আব্দুল ওয়াহাব তার আত্মীয় স্বজনকে জমাজমি থেকে অবৈধ পন্থায় উচ্ছেদ করছে। আব্দুল ওহাব এর নিজের বোন সংবাদ সম্মেলনে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন আব্দুল ওয়াহাব আমার পিতাকে জীবিতাবস্থায় মার ধোর করে যার ফলে আমার বাবার মৃত্যু হয়। সে জোড় পূর্বক আমার বাবার নিকট থেকে অন্য দুই ভাই এবং বোনদেরকে বঞ্চিত করে জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়। আব্দুল ওয়াহাবের অপর ভাই মৃত হাশেমের ছেলে কাওসার অভিযোগ করেন ২০/২৫ দিন পূর্বে ওয়াহাব গং জোড় পূর্বক আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দেয় এবং আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এমতাবস্থায় উক্ত গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ পরিবারের দেড়শাতাধিক মানুষ সব সময় গ্রেফতার আতংকে ভূগছেন। তারা নিজ বাড়িতে প্রায় দুই তিন মাস যাবত ঘুমাতে পারছেন না। তাদের চোখে মুখে গ্রেফতার আতংকের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় বাজারে আব্দুল ওয়াহাব এবং তার ছেলেরা ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হয়রানী করতে আরো এরকম মামলায় জড়ানোর কথা বলে বেড়ায়। এমতাবস্থায় তারা হয়রানী মূলক মামলা এবং অহেতুক গ্রেফতার এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author