গুরুদাসপুরে অবাধে চলছে ভেজাল খেজুরগুড় তৈরী

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড়ে ভেজাল খেজুরগুড় তৈরীর চলছে মহাৎসব। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মোকাম চাঁচকৈড় হাটকে কেন্দ্র করে ১১টি ভেজালগুড় তৈরীর কারখানা স্থাপিত হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ভেজালগুড় তৈরীর উৎসবে মেতে উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।


খোজ নিয়ে জানাযায়, ওই গুড় তৈরী করতে চিটা গুড়, চিনি ও রং প্রয়োজন হয়। চিটা গুড় গো-খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হয়। চিটা গুড় আর হাজার পাওয়ারের রং বলে খ্যাত বিষাক্ত রং এর সাথে চিনি মিশিয়ে চুলায় দীর্ঘ সময় জাল দিয়ে ওই গুড় তৈরী করা হয়। যা মানুষের দেহের অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করে। প্লাষ্টিকের ড্রামে করে নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর ও গোপালপুর এলাকা থেকে ওই চিটা গুড় নিয়ে আসেন তারা। ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানার মালিক বাদশার তৈরী গুড় বিদেশে রপ্তানী করেন বলেও জানা যায়। উপজেলার চাঁচকৈড় পুড়ানপাড়ার খালেক শা’র ছেলে হাজী বাদশা, আতিক শাহ ও আকতার শাহ ওই গুড় তৈরীর জনক বলে জানাযায়। এছাড়াও সুজন, সুমন, আলামিন, ময়েজ হুজুর, আসাদ, সুমন কুন্ডু. জনি কুন্ডু ও বাজার পাড়ার সাহাবুদ্দিন এসব ভেজাল গুড় তৈরী করে চলেছে। কিছু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে ওই ভেজাল গুড় তৈরী করছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেজাল গুড় তৈরী কারখানার এক মালিক জানান, অতিরিক্ত লাভের আসায় তারা গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে সুস্বাধু খেজুর গুড় তৈরী করছেন। তবে চা-পাতির রংও ব্যবহার করা হয়। এতে গুড়ের রং ভাল হয় তবে খরচ একটু বেশী পড়ে। ৩০ মন গুড়ের সাথে ৭০ মন চিনি মিশিয়ে একশ’ মন গুড় তৈরী করা হয়।
উপজেলা ভেজাল গুড় তৈরীর নেতা হাজী বাদশা শাহ জানান, গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে খেজুর গুড় তৈরী করা হয়। অন্য কিছু ব্যবহার করা হয়না। সপ্তাহে ৩-৪শ’ মন গুড় বাজারজাত করেন বলে তিনি জানান।
চাঁচকৈড় বাজার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানাযায়, ওই ভেজাল গুড় খেয়ে ডায়রিয়া, আমাশাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। চাঁচকৈড় ওই সকল ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানা থেকে প্রতি সপ্তাহে ৭০ থেকে ৭৫ মেট্টিকটন ভেজাল গুড় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। চিটা গুড়, কাপড় তৈরীর রং, প্রিন্টিং রং এর সাথে এক ধরনের ক্যামিকেল, আটা, হাইড্রোজ, ফিটকারী, চুলা ড্রাম ও চিনি মিশিয়ে ওই গুড় তৈরী করা হচ্ছে। যা মানুষের শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকর। ভেজাল গুড় তৈরী রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানান তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরী হয় শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author