Main Menu

গুরুদাসপুরে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন জলাবদ্ধতায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত প্রতিবাদে কৃষকের মানববন্ধন

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
দুই বছর আগেও তিনটি ফসল ফলতো। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিল কৃষক। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে যথেচ্ছা পুকুর খননের ফলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হাঁড়িভাঙ্গা ও দূর্গাপুর নামক বিলে এখন জলাবদ্ধতা স্থায়ী রুপ নিয়েছে। ফলে রবিশস্য আবাদ করতে পারেনি ওই এলাকার কৃষক। ব্যাহত হচ্ছে ইরি-বোরো আবাদও।
এদিকে পুকুর খনন বন্ধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবীতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছেন। উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের রাবারড্যাম সংলগ্ন সড়কে ওই কর্মসুচি পালিত হয়। এতে এলাকার কৃষকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন।
যথেচ্ছাভাবে পুকুর খননের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বক্তৃতা করেন বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. মোজাম্মেল হক, বিয়াঘাট ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আজিমুদ্দীন মোল্লা, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন, ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন ও স্বপন আলী এবং কৃষক হাবিবুর রহমান প্রমূখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গেল দুই ধরে বিয়াঘাট ইউনিয়নের হাঁড়িভাঙ্গা ও দূর্গাপুর বিল এলাকাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। গেল দুই বছরে কমপক্ষে ২০০ পুকুর খনন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব পুকুর খনন করেছেন বলে জানান তারা।একারনে ক্ষেত থেকে পানি নামতে পারছেনা- দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন সময় পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েও বন্ধ করা যায়নি পুকুর খনন। এখন ক্ষেত থেকে পানি নেমে যাওয়া শুরু হওয়ায় আবারও নতুন করে পুকুর খননের অশুভ পাঁয়তারা শুরু হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারী দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, তার ২২ বিঘা জমি রয়েছে দূর্গাপুর বিলে। কিন্তু জমির আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় ২২বিঘা জমিই এখন পানির নিচে। দুই বছর ধরে রবিশস্য চাষ করতে পারিনি। এখন ইরি-বোরো আবাদও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই রকম অভিযোগ করেন কৃষক মাসুদ আলী, আবুল কালাম আজাদ, শফিকুল ইসলাম ও বয়েজ উদ্দিন।
এসব কৃষকরা আরো অভিযোগ করেন, প্রভাবশালীদের ওই পুকুর খননের কারনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বেশি। কারন কৃষি জমির পাশ আইল ঘেঁষে প্রভাবশালীদের পুকুর খনন করার ফলে জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকা জমিতে আবাদ হয়না। বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে এসব আবাদী জমিগুলো পুকুর মালিকদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ক্ষুদ্র-প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা সর্বশান্ত হচ্ছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, বিয়াঘাট ইউনিয়নের হাঁড়িভাঙ্গা বিলে ৪৫৭ হেক্টর ও দূর্গাপুর বিলে ১৯৩ হেক্টরসহ ৬৫০ হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। যথেচ্ছাভাবে সেখানে পুকুর খনন করায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধ এসব জমিতে রবিশস্য আবাদ হয়নি। অন্য আবাদগুলোও ব্যাহত হচ্ছে। পক্ষান্তরে আবাদী জমি অনাবাদীতে পরিণত হচ্ছে। যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে কৃষিতে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, গত বৃহষ্পতিবার উপজেলা পরিষদের মাসিক সন্বয়সভায় শুধু বিয়াঘাট ইউনিয়ন নয়, উপজেলার চাপিলা ও নাজিরপুরসহ ছয়টি ইউনিয়নে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুসসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় নতুন করে পুকুর খনন বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন অফিসিয়াল কাজে বাইরে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (সহকারি কমিশনার ভুমি) গনপতি রায় বলেন, আবাদী জমিতে পুকুর খনন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, পুকুর খনন বন্ধে গুরুদাসপুরের ইউএনও এবং এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার পরও কৃষকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।