চাই রাষ্ট্রীয় স্বীক্রিতি, সফল দম্পতি দেলমাহমুদ-জসিমন নেসা

॥ ইকবাল কবীর রনজু ॥
মোঃ দেল মাহমুদ এবং জসিমন নেসা সফল দম্পতির বিরল উদাহরণ। মোঃ দেলমাহমুদের পৈত্রিক নিবাস পাবনার চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে। আর জসিমন নেসার পৈত্রিক নিবাস ছিল ভাঙ্গুড়ার সাহানগর গ্রাম। জসিমন নেসা বাংলা ১৩৪৯ সালর ১০ পৌষ, ইংরেজী ১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম ওসিমুদ্দিন খাঁ। বাংলা ১৩৬২ সালের ৫ মাঘ ইং ১৯৫৫ সালে দেল মাহমুদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। মোঃ দেল মাহমুদ বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে দীর্ঘদিন ইন্সট্রাক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পূর্ব মূহুর্তে তিনি নওগা ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের সুপার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। জসিমন নেসা একজন কোমল হৃদয়া সুগৃহিণী। একজন সফল মাতা। একজন রতœগর্ভা রমণী। প্রতিটি সন্তানকে তিনি মমত্ব, আদর, সোহাগ, শাসন দিয়ে মানুষের মত মানুষ করে তুলেছেন। তিনি একজন আদর্শ মাতা। এই সফল দম্পতি আমাদের এলাকার গৌরব বাড়িয়ে দিয়েছে। চাটমোহর পাবনা এমন কি বাংলাদেশকে করেছে মেধা মননে সমৃদ্ধ। এই সফল দম্পতির প্রথম সন্তান ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। ১৯৫৮ ইং সালের ৩০ জুলাই পাবনার চাটমোহরের চর পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পাবনার পৈলানপুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির পর ১৯৭৩ সালে বগুরা মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল থেকে এস এস সি, ১৯৭৫ সালে বগুরা সরকারী আযিযুল হক কলেজ থেকে এইচ এস সি, ১৯৮৩ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) থেকে এম ফিল (পিএসএম), ২০০৬ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব জেনারেল প্রাকটিশনার ঢাকা থেকে এফ সি জি পি ডিগ্রী লাভ করেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার কর্ম জীবন শুরু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তিনি সহকারী সার্জন হিসাবে যোগ দেন। এর পর পাবনার সুজানগর, ফরিদপুর, হেমায়েতপুর বগুড়া’র গাবতলীসহ বেশ কিছু স্থানে চাকুরী করেছেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান হিসাবে কর্মরত আছেন। তিনি বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৬ সালে তার স্ত্রী জিন্নাত আরার মৃত্যু হলে ২০১১ সালে সোহেলী আকতার শিউলীর সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের প্রথম সন্তান তামজীদ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে পরছেন। দ্বিতীয় সন্তান তারিফ। দেল মাহমুদ- জসিমন নেসা দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফসিউর রহমান ১৯৫৯ সালের ৩১ জুলাই পাবনার চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পাবনার পৈলানপুর এবং ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষায় তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর ১৯৭৪ সালে বগুড়া মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল থেকে এস এস সি, ১৯৭৬ সালে বগুড়া আযিযুল হক কলেজ থেকে এইচ এস সি, ১৯৮৪ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে রাজশাহী আইন কলেজ থেকে এল এল বি, ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স অব পাবলিক হেলথ এবং ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব জেনারেল প্রাকটিশনার থেকে এফসিজিপি ডিগ্রী অর্জন করেন। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত প্রতিরক্ষা কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ থেকে তিনি এনডিসি কোর্স সফল ভাবে সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে ক্যাপ্টেন পদে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি মেজর, ২০০১ সালে লেঃ কর্নেল, ২০০৯ সালে কর্নেল এবং ২০১০ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সদর দফতর, বিভিন্ন ফিল্ড এম্বুলেন্স, মেডিকেল ইউনিট, সিএম এইচ, পাবনা ক্যাডেট কলেজ ও বাংলাদেশ রাইফেলস এর বিভিন্ন সেক্টর, ঢাকা সিএম এইচ এর ডেপুটি কমান্ডার, চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, সিয়েরালিয়ন, নাইজেরিয়া, গিনি, আইভরিকোষ্ট, ক্যামেরুন, কেনিয়া, দুবাই, সৌদি আরবসহ অনেক দেশ ভ্রমন করেছেন তিনি। তার স্ত্রী সেলিনা বানু এসেনশিয়াল ড্রাগস লিঃ এর উচ্চ পদে কর্মরত আছেন। জাওয়াদ মাহমুদ ওয়াফি তাদের একমাত্র সন্তান। এই দম্পতির তৃতীয় সন্তান কর্নেল জালাল উদ্দিন ১৯৬২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন বগুড়া জিলা স্কুলে। ১৯৭৮ সালে এস এসসি পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় ২০ তম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮০ সালে সরকারী আযিযুল হক কলেজ থেকে এইচ এস সি, ১৯৮৭ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স অব পাবলিক হেলথ ইন হসপিটাল ম্যানেজ মেন্ট ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ক্যাপ্টেন পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদেন। ১৯৯৩ সালে মেজর, ২০০৯ সালে লেঃ কর্নেল এবং ২০১০ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ফিল্ড এম্বুলেন্স, সিএম এইচ, ব্যাটালিয়ন, প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের উপ পরিচালক, মেডিকেল অফিসার, অধিনায়ক, স্টাফ অফিসার, সহকারী সামরিক সচিবের মতো গুরত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত আছেন। কুয়েত, সৌদি আরব, মিশরসহ অনেক দেশ ভ্রমন করেছেন তিনি। মিসেস আমিনা মির্জার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। তাদের সন্তান আসিফ মাহমুদ রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। জারা মাহমুদ তাদের মেয়ে। সফল এ দম্পতির চতুর্থ সন্তান দেলেয়ারা মাহমুদ দিলু ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারী জন্ম গ্রহন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে ¯œাতোকত্তর ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। এর পর তিনি চাটমোহরের মির্জাপুর ডিগ্রী কলেজে কিছু দিন মনোবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি বগুড়ার জাহেদুর রহমান মহিলা কলেজে সহঃ অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন। অনেক গ্রন্থে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার মাইঝাইল গ্রামের মোঃ শরিফ উদ্দিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শরিফ উদ্দিন বগুড়ায় অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত আছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর চলে গেছেন না ফেরার দেশে। দেলমামুদ- জসিমন নেসার পঞ্চম সন্তান মোঃ জাকির হোসেন। তিনি বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এস এস সি পাশ করেন। এরপর সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এর পর বিএজি ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমান তিনি ভুমি উন্নয়ন কর্মকতা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই দম্পতির ষষ্ট সন্তান ওয়াই এম বেলালুর রহমান ১৯৬৯ সালের ২ জানুয়ারী বগুড়ায় জন্ম গ্রহন করেন। তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে এস এসসি, সরকারী আযিযুল হক কলেজ থেকে এইচ এসসি, চট্রগ্রাম বিআইটি বর্তমানে (চুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিয়ারিং এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত বিসি এস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পুলিশ ক্যাডারে নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে তার কর্ম জীবন শুরু হয়। তিনি এস এস এফ (পিএম অফিস), সিএমপি, খাগড়াছড়ি, আরএমপি, খুলনা জেলার পুলিশ সুপার, আইজিপি (টেলিকম) রাজারবাগ, ঢাকা, এবং নওগাঁর পুলিশ সুপার হিসেবে সফল ভাবে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার হিসেবে কর্মরত আছেন। কর্মজীবনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালী, বেলজিয়াম, অষ্ট্রেলিয়া, পূর্বতিমুর, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, আইভরিকোষ্ট, ঘানা, আরব আমিরাত, সৌদী আরব, প্রভৃতি দেশ ভ্রমন করেছেন। ডাঃ প্রথমা রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। তাদের দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সফল মাতা জসিমন নেসা যে সন্তানদের গর্ভে ধারণ করেছেন তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন। দেশ ও জাতির কল্যানে রাখছেন গুরত্বপূর্ণ অবদান। এমন বাবা মা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই সফল দম্পতি আমাদের গর্ব। আমাদের অহংকার। চাটমোহরের অহংকার। এই সফল দম্পতির জন্য চাই রাষ্ট্রীয় স্বীক্রিতি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author