মোবারক বিশ্বাস, পাবনা থেকে ঃ পাবনার ঢালার চরে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির একাংশের নেতা ও জুলহাস বাহিনীর প্রধান জুলহাস মন্ডল পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের বালাজ মেম্বারের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুলহাস মন্ডল একই ইউনিয়নের জসিম মন্ডলের ছেলে।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একাধিক মামলার পলাতক আসামী ও পাবনা, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী জুলহাস মন্ডল কে ডিএমপির সহায়তায় ঢাকা নিউমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গত ৩০ জানুয়ারি পাবনা জেলা পুলিশের আমিনপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসা বাদে জুলহাস তার অস্ত্র ভান্ডার ও বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য দেয়। জুলহাসের স্বীকোরোক্তি অনুযায়ী তাকে নিয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকান্ত মোহন্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢালারচর ইউনিয়নের দড়ির চর এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এ সময় বালাজ মেম্বারের মোড় এলাকায় ওৎপেতে থাকা জুলহাসের সহযোগীরা পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালালে জুলহাস পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার কবীর জানান, সন্ত্রাসীদের অবিরাম গুলিবর্ষণের বিপরীতে পুলিশ আত্মরক্ষায় গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ হয়। গোলাগুলীর এক পর্যায়ে জুলহাস গ্রুপের সহযোগীরা টিকতে না পেরে মাঠের মধ্যে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যায়। গোলাগুলী থামার পর স্থানীয়দের নিয়ে তল্লাশী চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জুলহাস মন্ডল কে উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
ঘটনাস্থল থেকে দুইটি দেশীয় ওয়ান স্যুটারগান(সক্রিয়), ০৭ রাউন্ড বন্দুকের তাজা কার্তুজ ও ০৬ রাউন্ড বন্দুকের গুলীর খোসা, একটি দেশীয় তৈরী .২২ বোর পিস্তল, এক রাউন্ড .২২ বোর পিস্তলের তাজা গুলী ও একটি খালী কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
জুলহাসের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমিনপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া থানায় ৯ টি মামলা রয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author