হলুদে লোকসান চাটমোহরের কৃষক ও ব্যাবসায়ীদের

ইকবাল কবীর রনজু :: মানব জীবনে হলুদের বহুবিধ ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। রান্নার কাজে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও বিবাহের মাধ্যমে নর নারীর জীবনে যে নতুন অধ্যায় সূচিত হয় সেই বিবাহের পর্ব শুরু হয় গায়ে হলুদের মাধ্যমে। ত্বকের যতেœ রূপ চর্চায় কাঁচা হলুদের ব্যবহার চলে আসছে সুদীর্ঘ কাল থেকে। রোগ নিরাময়, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও ব্যবহৃত হয় হলুদ। সূদীর্ঘ কাল থেকে চাটমোহরে হলুদের আবাদ হয়ে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে কমছে এর পরিধি। বাজারে চাহিদা না থাকায় চাটমোহরের হলুদ ব্যবসায়ী ও চাষীরা এখন লোকসানের মুখে।
উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথর গ্রামের হলুদ চাষী রতন চক্রবর্তী জানান, চলতি মৌসুমে ৬ হাজার টাকায় দেড় বিঘা জমি লীজ নিয়ে তাতে হলুদ চাষ করেছিলেন তিনি। বীজ সার শ্রমিক বাবদ আরো ১৪ হাজার টাকাসহ তার মোট খরচ ২০ হাজার টাকা। এ জমি থেকে মাত্র ১২ মন কাঁচা হলুদ পেয়েছেন তিনি। যা বিক্রি করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পেতে পারেন। তিনি আরো জানান, কয়েক বছর পূর্বে ও চাটমোহরের অনেক ব্যবসায়ী মাঘ ফাল্গুন মাসে কাঁচা হলুদ কিনে শুকালেও এখন তারা অন্য ব্যবসায় ঝুঁকছেন। হরিপুর ইউনিয়নের আগশুয়াইল পুড়ানপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করে তিনি ৮০ মন হলুদ পেলেও এবছর সমপরিমান জমিতে মাত্র ২৬ মন হলুদ পেয়েছেন। গত বছর এসময় বাজারে ১ হাজার ১শ টাকা মন হলুদ বিক্রি হয়েছে। এ বছর মৌসুমের শুরুর দিকে ১ হাজার টাকা মন হলুদ বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৮শ টাকায় এসে নেমেছে। দুই বিঘা জমিতে হলুদ আবাদে তার ২৯ হাজার টাকা খরচ হলেও তার উৎপাদিত হলুদ এখন বিক্রি করলে তিনি ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা পেতে পারেন।
চাটমোহরের ভাদড়া গ্রামের হলুদ ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, চাটমোহরের শাহাপুর, গুনাইগাছা ও হরিপুর এলাকায় বেশি হলুদ চাষ হয়ে থাকে। রেলবাজার এলাকার অমৃতকুন্ডা হাটে বেশি হলুদ কেনা বেচা হয়। হলুদ ব্যবসায়ীরা পুরাতন শুকনা হলুদ বিক্রি করতে না পারায় এ বছর অনেকে হলুদ কিনছেন না। প্রতি চার মন কাঁচা হলুদ সিদ্ধ করে শুকানোর পর এক মন টিকে। চলতি বছর ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা মন কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে। গত বছর চার মন কাঁচা হলুদ কিনে সিদ্ধ শুকানো খরচসহ প্রতি মন শুকনো হলুদে সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ হলেও এখন প্রতিমন শুকনো হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮শ টাকায়। মন প্রতি ব্যবসায়ীরা প্রায় ৬শ টাকা লোকসানে থাকায় এবং ব্যবসায়ীদের পুজি আটকে থাকায় হলুদ কিনতে পারছেন না তারা। হাটে হলুদের পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় বিপাকে পরছেন হলুদ চাষীরা।
চাটমোহর উপজেলা সহঃ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে ৮৫ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জন হয়েছে ১শ ৫ হেক্টর। বন্যার কারণে হলুদ আবাদ বিঘিœত হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author