ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস চাটমোহরে টিনের দোকানে ভিড়, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
শুক্রবার দুপুরে পাবনার চাটমোহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে পৌরসভা সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্মরণকালের বিশালাকৃতির শিলের আঘাতে ভেঙ্গে গেছে অসংখ্য টিনের ঘর বাড়ি। মানবেতর জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ। শনিবার সকালে পৌর সদরের বিভিন্ন ঢেউটিনের দোকানে টিন কিনতে ভিড় জমায় ক্ষতিগ্রস্থরা।

ঢেউটিনের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ৩২/৩৪/২৬/৩৬ সাইজের ঢেউটিনসহ সিমেন্টের তৈরি ঢেউটিনের চাহিদা অনেকগুণ বেড়ে যায়। আর এই সুযোগে টিনের বান্ডিল প্রতি তিনশ থেকে পাঁচশ থাকা বাড়িয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ঢেউটিন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। অনেক ক্রেতাই বেশি দাম দিয়ে ঢেউটিন কেনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দিশেহারা সাধারণ মানুষ উপায়োন্তর না দেখে বান্ডিল প্রতি ৩/৪শ টাকা বেশি দিয়েই টিন কেনেন। এদিকে পৌর শহর সহ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকদের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো।

দাম বেশি নেওয়ার ব্যাপারে চাটমোহর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ইদ্রিস আলী (সোনা মনি) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “ডেউ টিন ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ১৭শ টাকার টিন একদিন পরেই ২২শ টাকা,”।

এই স্ট্যাটাসের কমেন্টস-এ অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যে মতিউর রহমান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আসলেই আমারা খারাপ জাতি”। আল আমিন জনি নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ইতিহাস”। জিএস সুজন নামে অপর আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এমন সুযোগবাদিদের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি…সেই সাথে সরকারি ত্রান এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে খতিগ্রস্ত সবার পাশে থেকে দাম সহনশীল হবে এমনা প্রত্যাশা করছি।” পাভেল রহমান নামে অপর আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “দেখার কেউ নেই……..। দোষ হবে শেখ হাসিনার।”

তবে দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢেউটিন ব্যবসায়ীরা। চাটমোহর পৌর সদরের ঢেউটিন ব্যবসায়ী আদি সাহা ট্রেডিংয়ের স্বত্তাধিকারী আনন্দ সাহা ও রেলবাজার এলাকার মেসার্স হিমেল ট্রেডার্সের মালিক আহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, ‘দাম বেশি নেয়া হচ্ছে না। পূর্বেও যে দামে বিক্রি করা হয়েছে এখনও সেই দামেই বিক্রি করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার যুগান্তরকে বলেন, ‘ঢেউটিন ব্যবসায়ীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। আমি এ ব্যাপারে অতিসত্ত্বর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author