রাজশাহীতে ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আলোচনা সভা

নাজিম হাসান, রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষাবিস্তারের অগ্রদূত জননেতা মাদার বখ্শ্ এর কন্যা এবং রাজশাহী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা জননেতা আতাউর রহমানের সহধর্মিণী নারীমুক্তির পথিকৃত মানবতাবাদী সমাজসেবী আজীবন আত্মত্যাগী ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে রাজশাহী প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। বাদ আসর সাহেববাজার বড় মসজিদে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সভার শুরুতে ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের স্মৃতি প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের প্রতিবন্ধী সন্তান পিনুর জন্য দোয়া করা হয়। আলোচনা সভায় জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ উপদেষ্টা জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান পরিবারের সদস্য নারীনেত্রী সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনীর সভাপতিত্ব এবং জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলার পরিচালনায় অংশ নেন- স্মৃতি পরিষদ উপদেষ্টা কবি লেখক প্রাবন্ধিক মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কলামিস্ট প্রশান্ত কুমার সাহা, জননেতা আতাউর রহমান ও ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের সন্তান রাজশাহী প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ নরুল হুদা সরকার ও তার ছোট ভাই মান্নান সরকার, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক আবু সালেহ মো ফাত্তাহ, আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ মাদুত হাসান, যুবলীগ নেতা সুজন শেখ, আমরা ক’জনের পলাশ ও রফিক, সমাজসেবী কুব্বাস, আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, প্রখ্যাত আইনজীবী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ্যাডভোকেট মাদার বখ্শ্ সাহেবের প্রথম সন্তান হিসেবে মনোয়ারা রহমান আজীবন নিজ পিতাকে অনুসরণ করেছেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গণমানুষের নেতা বঙ্গবন্ধুর বাকশাল সরকারের রাজশাহী জেলা গভর্নর জননেতা আতাউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি গণমানুষের মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে গেছেন। তাঁর মতো আত্মত্যাগী সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমাদের মানবমুক্তির ইতিহাসে বিরল। অনন্ত মাতৃত্বের গৌরবধন্য মাদার বখ্শ্রে ¯েœহময়ীরূপ ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের চরিত্রে পূর্ণতা পেয়েছে। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। রাজশাহীর সচেতন নারী ও পিএন গালস্ স্কুলের ছাত্রীদের নিয়ে মনোয়ারা রহমান মিছিল বের করেন। ছাত্রী জীবনেই তিনি ছিলেন অধিকার সচেতন। তৎকালীন মুসলীম লীগ সরকারের অন্যায় অত্যাচার ও দমন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। রাজশাহী কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে তিনি প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। গণমানুষের মুক্তির রাজনীতি মানবপ্রেম দেশপ্রেম ছিলো তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র। ৫২’, ৫৩’, ৫৪’ সালে ‘বেগম মনোয়ারা রহমান’ সারদেশে এক আলোকিত নাম। স্বাধীনতা পরিবর্তী দেশ ও জাতি গঠনে সমাজসেবার ক্ষেত্রে তিনি বিগত ৪০ বছর ধরে নারী সমাজের উন্নয়ন, নারী মুক্তি, নারীর স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ নিঃস্বার্থভাবে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। রাজশাহী মহিলা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি পবা, মোহনপুর, চারঘাট, তানোর, গোদাগাড়ীসহ অত্র অঞ্চলের গবাদিপশু ও মৌমাছি পালন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে তিনি ১০ হাজারেরও অধিক নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। অসহায় নারীদের সেলাই, বুটিক, অ্যাম্বোডারী ও চামড়ার উপর কারুকাজ, তাঁতশিল্পে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনে তিনি একক ভূমিকা পালন করেন। আজীবনের আত্মত্যাগী বেগম মনোয়ারা রহমানের জীবন ও কর্মের আজো কোন মূল্যায়ন হয় নি। মহান ভাষাসৈনিক দেশ ও জনগণের একবুক কাছের এমন মানবিক ব্যক্তিত্বকে আমরা যদি মূল্যায়ন না করতে পারি- তাহলে এটি জাতীয় জীবনের জন্য দূর্ভাগ্যজনক।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author