আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা মহিলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বামীকে পিটালেন আ’লীগ নেতা

খুলনা প্রতিনিধি ॥ খুলনার পাইকগাছা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শোভা রায়কে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে পিটালেন আওয়ামীলীগ নেতা ও কলেজ শিক্ষক ময়নুল ইসলাম (৪৪)। এঘটনায় শিক্ষা কর্মকর্তার স্বামী বাবলু কুমার ঘোষ বাদী হয়ে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই শিক্ষক ও তার এক সহযোগীসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। একদিন পর শিক্ষক ময়নুল ইসলামও বাদী হয়ে পালটা মামলা করেছেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয়রা জানায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বাবলু কুমার ঘোষের স্ত্রী শোভা রায় পাইকগাছা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এসময় উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের বাতিখালী গ্রামের সরদার হারুন অর রশিদের ছেলে স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক ও আওয়ামীলীগ নেতা ময়নুল ইসলাম শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চালককে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। শোভা রায় বিষয়টিকে ঘৃণার চোখে দেখে প্রথম থেকেই তার কড়া প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালেও ময়নুল তাকে দেখে অনুরুপ অঙ্গ-ভঙ্গি করেন। কর্মকর্তা শোভা যথারীতি এর প্রতিবাদ করেন। পরের দিন ২৭ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শোভার স্বামী উপজেলা অফিসার কোয়ার্টারে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ময়নুল ও তার আরেক সহযোগী স ম আ. ওহাবের নেতৃত্বে আরো ৩/৪ জন অজ্ঞাত পরিচয় যুবক তার পথরোধ করে আকস্মিক মারপিট ও গালিগালাজ করতে থাকেন। বাবলু তার প্রতিবাদ করায় তারা চাকু ও লোহার রড দিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়। এক পর্যায়ে বাবলুর চোখের নিচে চাকু বসে যায়। একই সময় লোহার রডে তার নাকের হাড় ভেঙ্গে গুরুতর আহত হয়। এক পর্যায়ে তারা তার পকেট থেকে ৮৫ হাজার ৬শ’ টাকা বের করে নেয়। এসময় বাবলুর আতœচিৎকারে স্বাক্ষীসহ অন্যান্যরা এগিয়ে এসে তাদের বাঁধা দিলেও তারা নিবৃত হয়নি। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এসময় তারা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে অভিযুক্ত ময়নুল পাইকগাছা উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের প্রভাষক হওয়ায় এ ঘটনায় মামলা না করতে বিভিন্ন মহল থেকে সেই প্রথম থেকেই শোভা দম্পতিকে কখনো চাপ আবার কখনো অনুরোধ করা হচ্ছিল। মহল বিশেষ এনিয়ে স্থানীয় ভাবে মিমাংসারও চেষ্টা করা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তার স্বামীর উপর হামলার ঘটনায় ঐদিনই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ ও পরে আ’লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. সোহরাব আলী সানার মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে ডেকে একটি সমন্বয় প্রচেষ্টা করা হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্থদের এতে মনোঃপুত না হওয়ায় তারা তা মেনে নেয়নি। তবে সর্বশেষ বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওয়ায় বাবলু ঘোষ খানিকটা সুস্থ্য হয়ে গত ৮ এপ্রিল রবিবার পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দঃ বিঃ ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৯ ধারায় ময়নুলকে প্রধান করে একটি মামলা করেছেন। মামলা নং-সি আর ২১১/১৮।
মামলার প্রধান কৌশলী অ্যাড. প্রশান্ত কুমার মন্ডল জানান-আদালত তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্তা নিতে পাইকগাছা থানা ওসি কে নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শোভা রায় বলেন, যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ময়নুল ইসলাম নানা অঙ্গ-ভঙ্গির মাধ্যমে তাকে উত্যক্ত করতে থাকেন। সর্বশেষ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠামালা চলাকালে অনুরূপ উত্ত্যক্ত করলে তার কড়া প্রতিবাদ করেন তিনি। ২৭ মার্চ তার স্বামীর উপর অতর্কিত হামলাটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে শিক্ষক ময়নুল ইসলাম শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯ এপ্রিল সোমবার পাল্টা মামলা করেছেন। মামলা নং সি আর ২১২/১৮। শিক্ষক এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলছি বলে ফোন রেখেদেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author