ভাঙ্গুড়া ভূমি অফিসে নগদ ছাড়া ফাইল নড়েনা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ ভাঙ্গুড়া উপজেলা ভুমি অফিসে সেবা পেতে স্থানীয় সেবা গ্রহীতারা অফিসের পিয়ন নজরুল ইসলাম ও ইব্রাহিম আলীর দ্বারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি সম্পত্তি ইজারা, দাখিলা, খতিয়ান নামজারি রিপোর্টসহ নানা কাগজপত্রে তাদেরকে টাকা না দিলে কোনো কাজ হয়না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আদায়কৃত ঘুষের টাকা পরে অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত এ অফিসটিতে দীর্ঘ দিন পদ শুন্য থাকার পর গত বছর শুরুতে মাহফুজা সুলতানা ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে অফিসের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেন তিনি। এতে অনিয়ম কিছুটা কমলেও ঘুষ লেনদেন বন্ধ হয়নি। পিয়ন নজরুল ও ইব্রাহিমকে নগদ টাকা না দিলে যেকোন বৈধ ফাইলও আটকে থাকে দিনের পর দিন। ভুক্তভোগী উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের জুয়েল হাসান জানান, ’সরকারি বিধি মোতাবেক সাতবাড়ীয়া মৌজায় দুইটি সরকারি জলাশয় ইজারা নিতে গত সপ্তাহে তিনি অফিসিয়াল সকল কাজ সম্পন্ন করেন। তখন থেকে পিয়ন নজরুল আমাকে তার সাথে আলাদা কথা বলতে বলে। কথা না বললে জলাশয় হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে হুমকি দেন তিনি। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাকে এক হাজার টাকা দেই।’ গতবছর এ দু’টি জলাশয় ইজারা নিতে অফিসকে ত্রিশ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিলো বলে জানান তিনি। পাথরঘাটা গ্রামের আরিফুল ইসলাম নামে আরেকজন জানান, তার মায়ের নামে একটি জমির দলিলের নামজারি ফাইলটি অফিসে কয়েক মাস আটকে ছিলো। পরে দ্রুত নামজারি করে দেয়ার কথা বলে পিয়ন ইব্রাহিম আট শত টাকা ঘুষ নেয়।

অভিযোগের বিষয়ে পিয়ন নজরুল ইসলাম বলেন, পিয়নকে আবার কেউ টাকা দেয় নাকি! এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা জানান, এবিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, বিষয়টি সত্য হলে সেবাগ্রহীতাকে টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author