বিএনপি নেতাকে সামনে রেখে গুরুদাসপুরে আ.লীগের মঙ্গল শোভাযাত্রা

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বরণের দিনে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিএনপি নেতাকে সামনে রেখে ‘নৌকায় ভোট দিন’ এর ফেস্টুন হাতে বৈশাখী উৎসব করেছেন স্থানীয় আ.লীগ নেতাকর্মিরা। আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নৌকার ফেস্টুন নিয়ে এভাবেই প্রচারণা চালানো হয়। এসময় আ.লীগের সাংসদ বিরোধী গ্রুপও উপস্থিত ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতেৃত্বে ওই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস ও বিশেষ অতিথি ওই সাংসদ বিরোধী মোর্চার আ.লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী গুরুদাসপুর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মো. শাহনেওয়াজ আলীসহ তাদের সমর্থিত কর্মিরা ওই মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। এসময় সহিংসতা এড়াতে এবং আপামর জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য টহল পাহারায় ছিল থানা পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে গুরুদাসপুর উপজেলা আ.লীগের নেতাকর্মীরা সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা বিরোধীসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন করে চলেছেন। ১২ এপ্রিল নয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ আব্দুল কুদ্দুসকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার দাবী জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন নেতা কর্মীরা। এতকিছুর পরেও নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে যোগদেন তাঁরা।
প্রাপ্ত তথ্যসুত্রে জানা যায়, এ আসনের বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোজাম্মেল হককে দীর্ঘদিন এলাকার কোন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচরন করতে দেখা যায়নি। তবে গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ওই মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগদেন এবং নববর্ষের গৃহিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা।
অপরদিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের একদিন আগেও বৃহস্পতিবার উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহনেওয়াজ আলী অভিযোগ করে বলেন,- গুরুদাসপুরের নাজিরপুর, বড়াইগ্রামের চান্দাই ও গোপালপুরে বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের প্রতিপক্ষ বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে ভোট করেছেন এবং প্রশাসনকেও নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করেছেন। যার ফলে ওই তিন প্রার্থীরই পরাজয় ঘটে।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, পুলিশকে ব্যবহার করে শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কোনঠাসা করার জঘন্য চেষ্টা করেছেন আব্দুল কুদ্দুস। একই সাথে ইউপি নির্বাচনের পর নৌকার প্রতিপক্ষ বিজয়ী প্রার্থীদের জনসভায় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস নৌকার প্রার্থীদের ভোট না দেয়ায় আ.লীগ দলীয় ভোটারদের স্যালুট দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ আব্দুল কুদ্দুসসহ তার মেয়ে কেন্দ্রীয় যুবমহিলালীগের সহ-সভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি ও ছেলে আসিফ আব্দুল্লাহ শোভনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য, বিদ্যুৎ বানিজ্য, সোলার বানিজ্য, হত্যাচেষ্টা ও দলীয় একাংশের ওপর ক্রমাগত হামলা মামলাসহ নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও করা হয়। ফলে এলাকায় তার পরিবার আতœীয়স্বজনের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ব্যাপারে সাংসদ আবদুল কুদ্দুস বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দলের কতিপয় উচ্চাভিলাসীরা বিশেষ সুবিধা আদায় করতে না পেরে রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। কিন্তু আমি কারো কাছে মাথা বিক্রি করে রাজনীতি করতে রাজি না। মঙ্গল শোভাযাত্রায় শোভিত হোক গর্বিত বাঙালির সোনার বাংলাদেশ।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author