বাংলা নববর্ষ বরণ নিয়ে কিছু কথা।

— এবাদত আলী
প্রতি বছরের ন্যায় চৈত্রের প্রচন্ড দাবদাহের মাঝ দিয়েই ১৪ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার এবারের ১৪২৫ বাংলা শুভ নববর্ষের সুচনা। এবারে নব বর্ষ বরণের আগেই বৈশাখি ঝড়ের তান্ডব এবংং প্রচুর শিলা বৃষ্টিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। প্রচন্ড শিলা বৃষ্টির কবলে পড়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলাতেই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েক ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। কাল বৈশাখ আঘাত হানে সুজানগর সহ পাবনার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম সমুহে।
তারপরও বাঙালির প্রাণের স্পন্দন বাংলা নব বর্ষ বরণতো করতেই হবে। তাই এই উৎসবকে সামনে রেখে সারা দেশের মত পাবনাতেও কদিন আগে থেকেই সাজ সাজ রব পড়ে যায়। বাঙালির অতীত ঐতিহ্যকে লালন করতে বাংলা নববর্ষ বরণের জন্য পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম, পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সভাপতি স্বপন চৌধুরী এবং পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ, সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শফি ইসলাম, বাংলাদেশ প্রবীন হিতৈষী সংঘ পাবনা জেলা শাখার আলহাজ অ্যাডভোকেট জহির আলী কাদেরীসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলা নববর্ষ পালনের বিভিন্ন কর্মসুচি ও শুভেচ্ছা কার্ড পেলাম। পাবনা স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মত এবারও পাবনা আ্যডওয়ার্ড কলেজ মাঠের ‘ রুচি বৈশাখী উৎসব’ এবং মাচ রাঙা টিভির লাইভ প্রোগ্রাম দেখার আমন্ত্রণও পাওয়া গেলো। আর পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্য হবার সুবাদেই এসব আমন্ত্রণ পাবার পথ সুগম হয়েছে বলতেই হয়।
বাঙালির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বর্ষবরণের ইতহাস। তেমনি স্বকীয়তা নিয়ে এদিন সকালে পাবনা প্রেসক্লাবে শুরু হয় বাংলা নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠান। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘‘এসো হে বৈশাখ/ এসো এসো। তাপসনিশ্বাসবায়ে মমুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক/ যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয় গীতি/ অশ্রুবাষ্প সুদুরে মিলাক। এই গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা। এদিন সকাল সাতটা এক মিনিটে অনুষ্ঠান শুরুর কথা। বলতে গেলে সঠিক সময়ের কিছু আগেই এলেন পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম এবং আমার সহপাঠি ও একাত্তরের সহ যোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবি ইসলামসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃৃন্দ।
সেই সাথে আমি এবং প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক ও পাবনায় কর্মরত বিভিন্ন প্র্রিন্ট ও ইলেক্ট্র্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ এবংং তাদেও পরিবার পরিজন এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাবনা প্রেসক্লাবের ভি আই পি মিলনায়তনের টেবিল চেয়ার সরি সারি ভাবে সাজানো। তার উপর রাখা হয়েছে খিচুড়ি, আলু ভর্র্তা ও রুই মাচ ভাজি এবং দৈ। সন্মানিত অতিথি বৃন্দ, পাবনার সাংবাদিক বৃন্দ ও তাদের পরিবারের সদস্য বৃন্দসহ সব বয়সের সব শ্রেণীর মানুষই এক কাতারে শামিল। বাংলা নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে বাঙালিারা আজ একই সামিয়ানার নিচে সমবেত।
মিলনায়তনের গোটা দেয়াল জুড়ে টাঙানো হয়েছে বিভিন্ন রঙের বেলুন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কুলা চালুনের ওপর লেখা হয়েছে শুভ নববর্ষ। সিকায় রাখা হয়েছে মাটির হাড়ি। এসবই গোটা পরিবেশকে আকর্ষনীয় ও মোহনীয় করে তুলেছে।
শুরুতেই সুচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর পাবনার বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী কৃঞ্চ কর্মকার ও তার সঙ্গিরা বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয়ার জন্য বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গান এসোহে বৈশাখ দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাঁচের সঙ্গীতের সুরের মুর্চ্ছনায় প্রেসক্লাবের ভিআইপ মিলনায়তনের দর্শক শ্রোতাদের হৃদয় মন জয় করেন। সঙ্গীতের মাঝেই সকালের নাস্তা। নব বর্ষের শুভ সকালে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ হতে নানা সাজে সজ্জিত শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মিলনায়তন (মুক্তমঞ্চ) হতে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বেরকরা হয়। এই শোভাযাত্রায় শিশু কিশোরসহ হাজারো মানুষের পদচারনায় সমগ্র শহরই যেন মুখরিত হয়। রুচি বৈশাখী উৎসবের এই শোভা যাত্রায় নেতৃত্ব দেন স্কয়ার ফুড এন্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। এসময় পাবনা শহরের গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ, স্কয়ারের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারি ও সব বয়সের , সব শ্রেণী পেশার হাজারো মানুষ। এই বর্নাঢ্য শোভা যাত্রা নানারূপ বাদ্যের তালে তালে পাবনা আ্যাডওয়ার্ড কলেজে গিয়ে শেষ হয়। যেখানে স্কয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর উদ্যোগে আ্যডওয়ার্ড কলেজ মাঠে রুচি বৈশাখী উৎসবে মেতে ওঠে হাজার হাজার দর্শক শ্রোতা। রুচি বৈশাখী অনুষ্ঠান শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন অঞ্জন চৌধুরী পিন্ট্।ু
সঙ্গীত পরিবেশন ম্যাজিক বাওরিয়ানার শিল্পীবৃৃন্দ। তার সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব ও তার দল। অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচার করে বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাছ রাঙা।
বাংলা নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান শুধু পাবনা শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলোনা। বিভিন্ন উপজেলা তথা বিভিন্ন পাড়া মহল্লাতেও জাক জমকভাবে বরণ করে নেয়া হয় চৌদ্ধ শ পচিশ বাংলা নব বর্ষকে।
(লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

এবাদত আলী
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author