চেয়ারম্যানের দাপট প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে হাটের জায়গায় চলছে অবৈধ নির্মাণ কাজ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিলদহর হাট-বাজার থেকে ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে সিংড়ার চামারী ইউপি চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। উচ্ছেদ হওয়া গুরুদাসপুরের দুই হিন্দু ব্যবসায়ীর কাজল ও নরেন চন্দ্রের অভিযোগ, তারা হিন্দু বলে তাদের কোন জায়গা দেওয়া হবেনা বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার আব্দুল মোতালেব।
ক্ষতিগ্রস্থ ওই দুই ব্যবসায়ীর ভাষ্যমতে, প্রায় বিশ দিন আগে সিংড়া উপজেলার স্থানীয় অন্ততঃ আরো ১৫জন ব্যবসায়ীকে একইভাবে উচ্ছেদ করা হয়। প্রতিবাদ করায় গুরুদাসপুরের সাবগাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী আজগর আলীকে পিটিয়ে জখম করে তারা। ভয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এসব ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করতে পারছেন না। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বিলদহর হাট-বাজারটি স্থানীয় মমিন নামের একজন সরকারী ডাকের মাধ্যেমে ১৬ লাখ ৪হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। হাটের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের ২৫ ফিট প্রস্থ ও দেড়’শ ফিট চওড়া জায়গাজুড়ে প্রায় ৩২জন ব্যবসায়ী ব্যবসা করছিলেন। এসব ব্যবসায়ীর ১৮জনকে কোন কারন ছাড়াই অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাজল চন্দ্র ও নরেন চন্দ্র রয়েছেন।
বিলদহর হাট-বাজারের ইজারাদার মমিন জানান, সেখানে দুই সিফট এ ৩২ জন ব্যবসা করতেন। ১৬ জন কাপড় ব্যবসায়ী হাট বারে সেখানে দোকান দিতেন। বাকী ১৬জন অন্যান্য দিনে চাউল বিক্রি করতো। এখন ওই চাউল ব্যসায়ীসহ ২২জন বাস্ত হারা হয়ে পড়েছেন। উচ্ছেদের ব্যপারে তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা উচ্ছেদ বন্ধের আশ^াস দিলেও বাস্তব ভিত্তিক কোন পদক্ষেপ নেননি।
নাম প্রাকশে অনিচ্ছুক ওই হাট-বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ অন্তত আরো দশজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান রশিদুল উপস্থিত থেকেই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালাঘর ভেঙ্গে দিয়েছেন। এমনকি চালার টিনসহ অন্যন্য সরঞ্জামাদীও নিয়ে গেছেন। এসময় কাজল ও নরেন হিন্দু হওয়ায় তাদের হাটের জায়গায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবেনা বলেও জানিয়ে দেন তারা। ঘটনার পর থেকে তাদের ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ক্ষমতার দাপটে প্রায় ২০ দিন আগে চেয়ারম্যান রশিদুলের নেতৃত্বে আব্দুল মোতালেব, ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, নুরুল, রুহুল আমিন, রাজদুল, সাহেলসহ ১৫/২০জনের বাহিনী বিলদহর-হাট বাজারে ওই তান্ডব চালায়। উচ্ছেদকৃত ওই জায়গা টাকার বিনিময়ে চেয়াম্যানের ইচ্ছামত ব্যাক্তিদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে (আসিসি) পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানাগেছে, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী হাট-বাজারের জায়গা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পজিশন বরাদ্দের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি এক বর্গমিটারে ১শ টাকা হারে বাৎসরিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ বা অনুমোদন বাতিলের ক্ষমতা কেবল ভূমি অফিসের। তবে কোন ব্যবসায়ী স্থায়ীভাবে হাট-বাজারের বরাদ্দকৃত জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না।
সিংড়ার চামারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রশিদুল ইসলাম জানান, কিছু দোকান ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত সরকারী নয়।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, হাট-বাজারের জায়গা থেকে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ বা পূর্ণবাসনের কোন এখতিয়ার চেয়ারম্যানের নেই। তিনি আবারো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author