রানীশংকৈলে নারী লেলিয়ে সরকারী কাজে বাধা

রানীশংকৈল প্রতিনিধিঃ-
ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সোহাগ চন্দ্র সাহার নেতৃর্ত্বে ইজারা দেওয়া সরকারী পুকুর সরজমিনে বুঝিয়ে দিতে গেলে নারী লেলিয়ে সরকারী কাজে বাধা দেওয়া হয়। ১৫ এপ্রিল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের ৪ একর ৪১ শতক আয়তনের পশ্চিম কালুগাও যোশাহার পুকুর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।
আর এর নেতৃত্ব দেন পশ্চিম কালুগাও গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে আবুল কাশেম ও আকতার আলীর ছেলে সাইদুর রহমান তারা নারী লেলিয়ে দিয়ে পুকুরটিকে বুঝিয়ে দিতে দেয়নি ইজারা পাওয়া সমিতিকে। সংঘবদ্ব নারীদের চরম আক্রমনাত্বক আচরনে ফিরে আসতে হয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি কর্মকর্তা সহ ইজারা পাওয়া সমিতিকে। বর্তমানে বিষয়টি ভিন্ন দিকে ধাবিত করার পায়তারা করছে বলে মনে করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সোহাগ চন্দ্র সাহা। বাধা প্রধানকারীদের অভিযোগ পুকুরটি যে সমিতি পেয়েছে তারা প্রকৃত মৎস্যজীবি নই। নিজেদের প্রকৃত মৎস্যজীবি দাবী করে তারা এ পুকুর অন্য কাউকে না দিয়ে নিজেরা করবেন বলে তারা এসিল্যান্ডকে বুঝাতে গিয়েছিলেন মাত্র বলে আমাদের প্রতিবেদকে জানান। বর্তমানে পুকুরটি সরকারের বেদখল হয়ে রয়েছে বলে জানা যায়।
জলমাহল ইজারা অনুযায়ী ১৪২৫ থেকে ১৪২৭বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ইজারায় ঐ পুকুরের বিপরীতে তিনটি মৎস্যজীবি সমিতি মধ্যে বনগাও সাতলাখ চল্লিশ হাজার পাচশত ক্ষুদ্র বাশবাড়ী পাচলাখ পশ্চিম কালুগাও তিন লাখ সত্তর হাজার টাকা মূল্য দরপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে নিয়মনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতা মধ্যে বনগাও মৎস্যজীবি সমিতিকে পুকুরটি ইজারা দেন কর্তৃপক্ষ।
নিয়ম অনুযায়ী বাংলা বছরের পহেলা বৈশাখে পুকুর সরকার পক্ষ থেকে ইজারাকৃত সমিতিকে বুঝিয়ে দিতে গেলেই ঘটে বাধা প্রদানের ঘটনা।
সরজমিনে গিয়ে ও প্রত্যক্ষদশী সুত্রে গতকাল বুধবার জানা যায়, ১৫ এপ্রিল বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সোহাগ চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে পুকুর পাড়ে পৌছা মাত্রই পুরুষের তুলনায় নারী এগিয়ে আসে এসিল্যান্ডের সামনে। এসে তারা জানায় আমরা এ পুকুর নেওয়ার জন্য দরপত্র আহবান করেছি পুকুরটি আমরা নিবো মাছ চাষ করবো। আপনি যাদের পুকুর দিতে চাচ্ছেন তারা প্রকৃত মৎস্যজীবি না তারপরও আমরা পুকুরটি পাওয়ার অধিকার রাখি।
কিন্তু আপনি আমাদের পুকুর না দিয়ে অমৎস্যজীবিদের দিয়েছেন। আমরা আদালতে মামলা করেছি অমৎস্যজীবিদের পুকুর দেওয়া যাবে না মর্মে। এ বলে তারা এসিল্যান্ডকে পুকুর বুঝিয়ে দিতে না দিয়ে সেখানে নারীদের উপস্থিতি বাড়িয়ে অন্যরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। অবশেষে এসিল্যান্ড নারীদের সংঘবদ্ব বাধার মুখে পুকুর ইজারা কৃত সমিতিকে বুঝিয়ে না দিয়ে ফিরতে বাধ্য হন।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোবারক আলীকে মুঠোফোনে প্রকৃত অপ্রকৃত মৎস্যজীবি সমিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন নিবন্ধন কৃত সকলেই মৎস্যজীবি কেউ অযথা অভিযোগ করলে তো হবে না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন,সংঘবদ্বভাবে নারী লেলিয়ে অত্যন্ত সু-পরিকল্পিতভাবে আমাকে সরকারী কাজে বাধা প্রদান করা হয়েছে। আমি আইনি প্রক্রিয়ায় যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। এবং ইজারাকৃত সমিতিকে পুকুর বুঝিয়ে দিবো।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author