ঈশ্বরদী ইপিজেড শ্রমিকদের নানা প্রকার নির্যাতন,মেয়ে শ্রমিকদের অবৈধ প্রস্তাব ও চাকুরি চ্যুতির হুমকিসহ নানা অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় দোভাষী জুয়েলকে আন্দোলনের মুখে সাময়িক বরখাস্ত ॥ সাংবাদিকদের কাজে বাধা

স্টাফ রিপোর্টার,ঈশ্বরদী ॥ দীর্ঘদিন থেকে শ্রমিকদের নানা প্রকার নির্যাতন,মেয়ে শ্রমিকদের অবৈধ প্রস্তাব ও ও চাকুরি চ্যুতির হুমকিসহ নানা অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ঈশ্বরদী ইপিজেডস্থ জাপানী মালিকাধীন নাকানো কোম্পানীর দোভাষী জুয়েলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভাড়াটে মাস্তান বাহিনী দিয়ে শ্রমিকদের মারপিট ও হত্যার হুমকি প্রদান,মাস্তান বাহিনীর সাথে পার্টনারে নামে বেনামে কেমিলক্যাল ও ফেব্রিক্সসহ নানা প্রকার ব্যবসা করা এবং অসংখ্য নারী শ্রমিককে অবৈধ প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা ফ্যাক্টরী চত্ত্বরে আন্দোলন চলে। এ সময় ফ্যাক্টরী এলাকায় অসংখ্য পুলিশ ও বেপজার নিরাপত্তা কর্মীরা শ্রমিকদের উপর মারমুখি আচরণ করে অবস্থান নেয়।
শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ এপ্রিল সকালে উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তারা কেমিক্যাল স্টোরে ঢুকে সুপারভাইজার জাহিদ হাসানের কাছে জানতে চাইলে দোভাষী ও ওয়াশিং ইনচার্জ জুয়েলের আমদানীকৃত নি¤œমানের কেমিক্যাল ধরা পড়ে এবং জুয়েলের সকল অপকর্মের গোপন তথ্য ফাঁস হয়। এ কারণে দোভাষী জুয়েল ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৮ এপ্রিল দিনব্যাপি কয়েকবার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা সুপারভাইজার জাহিদ হাসান ও তার পরিবারকে হত্যা এবং ঈশ্বরদী ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য অব্যাহতভাবে হুমকি দিলে জাহিদ হাসান অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। অন্যদিকে গত ১৮ এপ্রিল বিকেলে বাঘইলে স্টোরকিপার হেলালকে জুয়েলের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মারপিট করে আহত করে। এসব ঘটনা জানাজানি হলে মালিক পক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করায় বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা সকাল থেকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
গত ১৮ এপ্রিল সকালে জোরপূর্বক চাকুরি হতে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হওয়া আইট ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দোভাষী জুয়েলের অত্যাচারে সকল শ্রমিক অতিষ্ঠ। নারী কেলেংকারীসহ অনিয়ম-দূর্ণীতির প্রধান হোতা জুয়েলের সাথে বেপজার কর্মকর্তাদের আর্থিক সম্পর্ক আছে। যে কারণে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোন কাজ হয়না। সাংবাদিকদের কাছে একই অভিযোগ দেন,চাকুরিচ্যুত সিরাজুল ইসলাম ও জয়ফকির। অভিযোগকারীরা অভিযুক্ত জুয়েল চাকুরিচ্যুতিসহ ও সহায়তাকারী বেপজার কর্মকর্তাদের ্ বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করে বলেন,জুয়েল ও জুয়েলকে সহায়তাকারী বেপজার দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে এবং তাদের কারণে নাকানো ফ্যাক্টরীবন্ধসহ ঈশ্বরদী ইপিজেড মারাতœকভাবে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব সব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ তাদের সিকিউরিটি ও পুলিশ দিয়ে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেয় এবং ইপিজেড এলাকার সকল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
ঈশ্বরদী ইপিজেডের জিএম নাহিদ মুন্সীকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কলরিসিভ করেননি এমনকি কোন কথাও বলেননি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author