সুজানগরে———– বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন মেলায় একদিন

–এবাদত আলী
পাবনা জেলার অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি উপজেলা সুজানগর। সুদুর অতীতে এর নাম ছিলো গোবিন্দগঞ্জ। মুঘল স¤্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালের শেষ ভাগে তার পুত্রদের মধ্যে রাজ সিংহাসনের দখল নিয়ে যে বিরোধের উদ্ভব ঘটে তাতে যুবরাজ শাহ সুজা আরাকান রাজ্যে পালিয়ে যান। যাবার সময় তিনি সুজানগরে তিনদিন অবস্থান করেন। এই স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য এলাকাবাসির উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ করা হয় সুজানগর।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে এই সুজানগরের ভুমিকা ছিলো গৌরবোজ্জল। সুজানগরে তখন ছাত্র-জনতা এক কাতারে শামিল হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সর্ব প্রথম সুজানগরে প্রবেশ করে ১৯৭১ সালের ৩ মে তারিখে। এই দিন হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর পাবনার পিস কমিটির নেতা সদর থানার চরতারাপুর ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ওসমান গণি খানের সহযোগিতায় সুজানগর বাজারে হামলা চালায়। তারা ব্যাপক লুট তরাজ করে ও বসত বাড়িতে আগুণ ধরিয়ে দেয়। তারা সুজানগরের বসন্তকুমার পাল, লক্ষি কুন্ডু ও সুরেশ চন্দ্র কুন্ডুকে (পিতা-পুত্র) নির্মমভাবে হত্যা করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সুজানগরের দক্ষিন সংলগ্ন ভবানিপুর গ্রামে প্রবেশ করে বেশ কিছু মা বোনের সম্ভ্রম হানি করে। এসময় স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানিদের যারা সহযোগিতা করে তাদের মধ্যে ছিল দালাল আঃ আলী খা, তোফাজ্জল হোসেন মল্লিক ওরফে তাজেক মল্লিক, আব্দুর রশিদ মল্লিক ও পলটন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা সাতবাড়িযায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করে লোকজনকে পাইকারি হারে হত্যা, বাড়িঘরে লুটতরাজ ও অগ্নি সংযোগ করে।
আমি (এবাদত আলী ) ১৯৯৫ সালের ২৭ মে তারিেেখ পাাবনার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কিংবদন্তি, পাবনার সিংহ পুরুষ অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল এম পির বাসায় বসে তার যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলাম তাতে তিনি বলেছিলেন,“ আমাদের সর্ব শেষ যুদ্ধ হয় ১২ ডিসেম্বর সুজানগরে। আমার নেতৃত্বে সুজানগর থানা তিন দিক থেকে আক্রমণ করা হয়। এক দিকে এ্যাম্বুশ পেতে এলাকাটি ফাঁকা করে রাখা হয়। ভোর ৬ টার দিকে আক্রমণ শুরু করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা নুরুল গুলিতে আহত হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হয়। এই যুদ্ধে সুজানগরের ইব্রাহিম েেমাস্তফা কামাল দুলাল শহীদ হয়। উলাট গ্রামের আবু সাঈদের চোখে গুলি লেগে তার দুটো চোখই নষ্ট হয়ে যায়। ১৩ তারিখ রাত ৯ টার সময় থানার পশ্চিম পাশে বাংকারে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয় দ্বীপচরের আবু বকর। এই যুদ্ধে জহুরুল ইসলাম বিশু গুলিবিদ্ধ হয় এবং তাকেও চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীর সৈনিক মোস্তফা কামাল দুলালসহ সুজানগরের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুজানগর উপজেলা কমান্ডের জন্য সুজানগর সোনালী ব্যাংকের সামনে ২ কোটিট ৫০ লাখ ৩০ হাজার ৯শ ৮৬ টাকা ব্যয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্র্মাণ করা হয়েছে। এই কমপ্লেক্সে ভবনের শুভ উদ্বোধন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
আর তাই এত আয়োজন। ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে সকাল ১০ টায় তিনি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন। পাবনা জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাকে তাই উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মালিগাছা ইউনিয়ন কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার হওয়ার সুবাদে আমারও ডাক পড়লো।
৬ বৈশাখের মেঘের লুকোচুরি খেলার আড়ালে সকালের সুর্যোদয়ের পর পরই নাস্তা পর্ব সেরে আমাকে টেবুনিয়ার বাসা থেকে বের হতে হলো। ইউনিয়ন কমান্ডার আলহাজ হারেজ আলীসহ আমরা পাবনা শহরের আবদুল হামিদ সড়কের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল মুুক্ত মঞ্চের কাছে অপেক্ষমান বাসে গিয়ে বসলাম। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পাবনা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিবের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সুজানগর যাত্রা। যেন মহা মিলনের প্রতিক্ষার যাত্রা। সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল বাতেন, এবং পাবনা সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আলহাজ আবুল কাশেম, তথ্য ও প্রচার হাবিবুর রহমান রঞ্জু, দপ্তর দেওয়ান আলহাজ ওমর ফারুক, সাংগঠনিক কমান্ডার ময়েন উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডারগণ আমাদের খোজ খবর নিলেন। জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ আব্দুল লতিফ সেলিম আমাদের প্রত্যেককে একটি করে ক্যাপ পরিয়ে দিলেন। অনেক দিন পর সহযোদ্ধাদেরকে এত কাছে পেয়ে অনেকেই এক অপরের সঙ্গে তুই তুকারি শব্দে স্মৃতি চারণ করতে ভুললেন না।
আমরা এক সময় সুজানগরে পৌছলাম। মন্ত্রীর আগমণে সমগ্র সুজানগরে যেন সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। আরো বেশি কৌতুহলের কারণ হলো মন্ত্রী আসবেন অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারে চড়ে। স্কয়ার টয়লেট্রিজ ও মাছ রাঙা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুকে মন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ অতিথি রাখা হয়েছে। আরো বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম। প্রধান বক্তা হিসেবে আছেন পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু।
সুজানগর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন প্রাঙ্গনে বিশাল তোরণ নির্মাণ করা হযেছে। ব্যানার ফ্যাষ্টুন আর বেলুনে ছেয়ে গেছে এলাকাটি। বিভিন্ন স্থান হতে আগত হাজারো মুক্তিযোদ্ধার পদচারনায় কমপ্লেক্স প্রাঙ্গন তখন মুখরিত। সকলেই মন্ত্রীর আগমণ প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছে। মুক্তিযোদ্ধাদের এই মিলন মেলা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না। ১৯৭১ এর রণাঙ্গনের সাথি এত সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এক সঙ্গে পাওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা।
সকাল ১০টার দিকে আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিলো। অস্থায়ী হেলি প্যাডে নেমে মন্ত্রীর গাড়ি বহর সোজা চলে গেল শহীদ মোস্তফা কামাল দুলালের সমাধিস্থলে। কবর জিয়ারত শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক নব নির্র্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে পুস্প স্তবক অর্পণ করলেন। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করা হলো। এর পর মন্ত্রী মহোদয় ফিতা কেটে মুক্তিযোদ্ধা ভবনের শুভ উদ্বোধন করলেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গ বন্ধু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের আগমণ- শুভেচ্ছা স্বাগতম ধ্বনিতে এলাকাটি তখন সরগরম।
এবার মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলালের নামে প্রতিষ্ঠিত সুজানগর শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দিকে সবাই দল বেধে যাত্রা শুরুর পালা। এখানে জনসভায় যোগদান। বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠ জুড়ে সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে এবং এক পাশে সুসজ্জিত মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আরোহন করলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করে লাল রঙের চেয়ার দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য অতিতি বৃন্দ এবং সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পবনা প্রেসক্লাবের সদস্য এবং একজন প্রবীন সাংবাদিক ও কলাম লেখক হওয়ার সুবাদে সাংবাদিক সমাজে আমার কিছুটা পরিচিতি রয়েছে। তাই সুজানগর বাস থেকে নেমেই সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী ভাইসহ অনেকেরই খোজ করলাম। কিন্তু সবাই ব্যস্ত। যদিও দু একজন সাংবাদিক গ্যালারিতে বসার জন্য অনুরোধ করলেন কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের আসন ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে মন সায় দিলোনা।
যাক এক সময় পবিত্র কোর আন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হলো। কিন্তু শহীদদের স্মরণে দাড়িয়ে নীরবতা পালন কিংবা তাদের বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা এর কিছুটাই হলোনা। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সুজানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক সূজিত দেবনাথের সভাপতিত্বে জনসভা আরম্ভ করা হলো।
এবার যথারীতি বক্তৃতার পালা। পাবনা জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি শিবলী সাদিক, সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহীীন, এসএম শামসুল আলম, সুজানগর থানা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম বাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পাবনা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব বক্তব্য দিলেন। তিনি তার বক্তব্যে অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি জানান। সুজানগর পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল ওহাব অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুুর নিকট একটি এ্যাম্বুলেন্সের দাবি জানান। বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাাজ আব্দুল কাদের রোকন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম আবেক পুর্ণ বক্তব্যে বলেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম প্রহরে পুলিশ সদস্যরাই পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলো। রাজশাহীর পুলিশ সুপার মজিদসহ ১৩শ পুলিশ সদস্য মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তিনি শহীদ রুমির কথা উল্লেখ করেন। শহীদ আজাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলো আজাদ। খবর পেয়ে সেখানে তার মা তার সাথে দেখা করতে গেলে আজাদ মায়ের কাছে ভাত খেতে চেয়েছিলো। আজাদের মা ভাত নিয়ে গিয়ে আর ছেলের সন্ধান পায়নি। এরপর ১৫ বছর জীবিত থাকাকালে আজাদের মা কোনদিন ভাত মুখে দেননি। তিনি তার প্রকাশিত ‘‘পাবনা জেলার পুলিশ মুক্তি যোদ্ধাদের স্মৃতি কথা ” বইটির কপি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন এবং সারা দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধার জীবনি লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি অনুরোধ জানান। বিশেষ অতিথি পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাগণ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। পাবনা জেলার মুক্তিযোদ্ধাগণ যে কোন সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সে সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান তিনি করবেন বলে অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিেিটড ও মাছ রাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরি মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু মক্তিযুদ্ধকালিন এই সুজানগরের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন মুক্তিযুুদ্ধের সময় এই সুজানগরে তার বাবাসহ পরিবার পরিজন আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি সুজানগর এলাকায় যুদ্ধ করেছেন। সেসকল স্মৃতি তিনি অকপটে তুলে ধরেন। সুজানগর বাসির জন্য তিনি একটি এ্যাম্বুলেন্স
প্রদানের কথা ঘোষণা করেন।
প্রধান বক্তা পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু তার বক্তব্যে এই দিনটি সুজানগর বাসির জন্য ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এই এপ্রিলে মুজিবনগর সরকার গঠনের ইতিহাসও তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, দেশের প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা বিনা খরচে শতভাগ চিকিৎসা সেবা পাবে। এই সেবা আগামি ১ মাসের মধ্যে চালু করা হবে। সারা বাংলাদেশে একই ডিজাইনে বিভিন্ন স্থানের বধ্যভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সমুহ সংরক্ষণ করা হবে। আগামি প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যুগ যুগ ধরে মনে রাখতে পারে এজন্য অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধ কালিন সময়ের স্মৃতিচারণমুলক বক্তব্য রেকর্ড করা হবে। আগামি জুন মাসের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। চাকুরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল প্রসঙ্গে বলেন, একবার কোন জিনিষ কাউকে দিলে তা আর ফেরত নেয়া যায়না, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য্য চাকুরিতে যে কোটা ছিলো তা যেন বহাল রাখা হয় এজন্য সারা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত করে ঢাকায় মহা সমাবেশের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট মুক্তিযোদ্ধার কোটা বহাল রাখার জন্য দাবি জানানো হবে। মুক্তিযোদ্ধাধের চুড়ান্ত তালিকা তৈরি সম্পর্কে তিনি বলেন, যে যে তালিকায় যেভাবে যাদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই তাদেরকে সনদ প্রদান করা হবে। তিনি বলেন যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো তাদের ও তালিকা করা হবে। তিনি সকলকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করলে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হলো। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের সেই গানের কথা মনে পড়ে গেল, যখন ভাঙলো মিলন মেলা ভাঙলো. . .।
এবার যার যার গন্তব্যে ফিরবার পালা। (লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও কলমিস্ট)
এবাদত আলী
সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব
বাসা: টেবুনিয়া, পাবনা

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author