সলঙ্গা-ভূইয়াঁগাতী সড়কের বেহাল দশা! সংস্কারের দাবী এলাকাবাসীর

সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানা সদর থেকে ভূইয়াগাতী পর্যন্ত ৮.৩১ কিলোমিটার রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির অধিকাংশ স্থানে কার্পটিং উঠে গিয়ে এমন খানাখন্দে পরিণত হয়েছে যে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ঝুকিপূর্ণ এ রাস্তায় যাত্রী ও মালামাল বহনকারী যানবহন প্রায় উল্টে গিয়ে ঘটে অসংখ্য ছোট বড় দূর্ঘটনা। এতে করে অসংখ্য মানুষ আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। অথচ থানা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় যাতায়াত করে থাকেন এ সড়ক দিয়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গা-ভূইয়াগাতী আঞ্চলিক সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। সলঙ্গা থানা সদরের হাটটি উত্তর বঙ্গের বৃহৎ হাট। এ হাটে এবার রাজস্ব আদায় হয়েছে এক কোটি একান্ন লাখ টাকা। গারুদহ নদী তীরে অবস্থিত সলঙ্গা বন্দর ছিল এবং কালের বর্ধিষ্ণু জনপদ। ১৯২২ সালের ২৭ শে জানুয়ারি বিলেতিপন্ন বর্জনে এই সলঙ্গাতেই সংঘটিত হয়েছিল মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ। এ ছাড়াও সলঙ্গা থানা সদরে রয়েছে একটি অনার্স কলেজ, মহিলা কলেজ, ফাজিল মাদ্রাসা, মহিলা মাদ্রাসা, সলঙ্গা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সলঙ্গা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় , সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে রাস্তার এ বেহাল দশা নিয়ে কথা বলতে গেলে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানই রাস্তাটিকে চলাচলের অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। সেই সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় জনসাধারণ।

ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ জিল্লুর রহমান সরকার বলেন, উপজেলা সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ভূঁইয়াগাতী থেকে সলঙ্গা থানা সদর পর্যন্ত ৮.৩১ কিলোমিটার রাস্তাটির মধ্যে ২১০০ মিটার রাস্তা বাদে অবশিষ্ট রাস্তা পাকা করণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ সংষ্কার না করায় একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে অভ্যান্তরীণ যোগাযোগ রক্ষা করতে প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী এলকার প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচল। সারা রাস্তা জুড়ে খানা-খন্দের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা।

সলঙ্গা অনার্স কলেজের ছাত্রী শিলা রানী রাজবংশী জানান, বিগত ৫ বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা। আমরা প্রতিদিন নানা দূর্ভাগের মধ্য দিয়ে কলেজে যাতায়াত করে থাকি। বৃষ্টির দিনে কাঁদাপানিতে আমাদের অনেকেরই স্কুল কলেজে যাওয়া হয়ে ওঠে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় আসলেই জনগণের কাছে আসেন। কিন্তু বিগত ৫ বছর ধরে রাস্তাটির এই অবস্থায় থাকলেও কেউ খবর নিচ্ছেন না।

এ রাস্তায় প্রতিদিন চলাচলকারী স্কুল শিক্ষক শাহ আলম নূর জানান, দূর্ভোগকে সঙ্গে নিয়েই রাস্তাটি দিয়ে তাদের নিত্য দিনের চলাচলা। এছাড়াও এখন বৃষ্টির মৌসুম হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ দূর্ভোগ। তিনি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান।

রায়গঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী এম.এ. আব্দুর বাসেত জানান, এ বিষয়ে তারা অবগত। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সংষ্কারের।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author