রেড কার্পেট যেন ঐশ্বর্যময়!
সকালে ঘুম থেকে উঠেই হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ পেলাম আমার প্রযোজক ইমপ্রেস টেলিফিল্মের মার্কেটিং ডিরেক্টর ইবনে হাসান খানের। কফির কাপ হাতেই নিয়ে ফোন দিলাম রিভেরিয়া থেকে। তিনি তখন ব্যাংককে। আমার সারাদিনের কর্মসূচি জেনে জানিয়ে দিলেন সকাল সকাল আমাকে যেতে হবে কানের একটা নামকরা হোটেলে। হোটেলের সৈকতে থাকবেন ভারতীয় সিনেমার অভিনেতা দানুশ। আমাকে তার সাথে দেখা করে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। দানুশ কানে এসেছে জানতাম তার ছবির প্রমোশনে ‘The extra ordinary jouey of the fakir’, হলিউডের এই ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৩০ মে।
কফি শেষ করেই মালিহাকে বললাম, তুমি শ্যাননকে নিয়ে রেডি থেকো, আমি এসেই তোমাদের নিয়ে গ্রাসে পারফিউম ফ্যাক্টরি দেখতে যাবো। হোটেলের সৈকতে গিয়ে আমার প্রযোজকের পক্ষ থেকে একটি ফুলের তোড়া দিয়ে নিজের পরিচয় দিলাম। কথায় কথায় আমার ছবির প্রসঙ্গ উঠলো, বাংলাদেশের ছবির প্রসঙ্গ উঠলো। দানুশ জানালো, এখন সে আন্তর্জাতিক ছবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সুতরাং বাংলাতে ভালো ছবি হলেও সে কাজ করবে।
দানুশের কাছে থেকে ফিরে এসে আর পারফিউম ফ্যাক্টরি দেখা হয়নি। কারণ মালিহা প্রতিবছর ঐশ্বরিয়া রাই-এর সাথে একই সময়ে রেড কার্পেটে থাকতে পছন্দ করেন। তাই তাড়াতাড়ি যেতে হলো গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ারের দিকে। মালিহাকে রেড কার্পেটের প্রবেশদ্বারে রেখে আমি আর শ্যানন চলে গেলাম ভারতীয় প্যাভিলিয়নে।
দুবাইয়ের ডিজাইনার মাইক সিঙ্কোর ডিজাইন করা পোশাক করে ঐশ্বরিয়া রাই রেড কার্পেটে এসেছেন। কালো রঙের সাথে মেরুনসহ বিভিন্ন  রঙের ডিজাইনের সাথে ঐশ্বরিয়ার সাজ-সজ্জাটি সাজানো ছিল। কান রাণী সহজেই রেড কার্পেটে মাথা ঘুরিয়েছিলেন। এ বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বরিয়া ১৭তম বছর পালন করলেন।
ভারতীয় প্যাভিলিয়নে যখন শ্যানন আর আমি এক সাংবাদিক বন্ধুর সাথে বসে গল্প করছি, মালিহা ঢুকলো কিন্তু তার মন ভীষণ খারাপ। কারণ এবার রেড কার্পেটে কোনো সেলফি তুলতে দেয়নি, তাই ঐশ্বরিয়ার সাথে তার সেলফি তোলা হলো না। তার মন ভালো করতে হাঁটতে থাকলাম সৈকত ধরে পরিচালক গিল্ডের লাউঞ্জের দিকে। এই অসাধারণ সুন্দর সৈকতে হেঁটে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার মন ভালো হয়ে গেল। সত্যিই কান অসাধারণ!
Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author