মস্তিষ্কের টিউমার বা ব্রেইন টিউমার হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যখন মানুষের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক কোষ তৈরি হয়। এই টিউমার দুই প্রকারের হয়ে থাকে। যার একটি হচ্ছে ম্যালিগ্যান্ট বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার এবং অন্যটি বেনাইন টিউমার। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী প্রাইমারি টিউমার তৈরি হয় মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে। আর মাধ্যমিক টিউমার শরীরের অন্য কোন অংশে তৈরি হয়ে এক পর্যায়ে বিস্তৃত হয়ে মস্তিষ্কে চলে আসে। মস্তিষ্কের বেশিরভাগ টিউমারের কারণ এখনও অজানা।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভিনাইল ক্লোরাইড, এপস্টাইন-বার ভাইরাস এবং আয়োনিত তেজস্ক্রিয়তা ব্রেন টিউমারের কারণ হতে পারে। তবে এবার ইংল্যান্ডের এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, ম্যালিগ্যান্ট বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার সৃষ্টির পেছনে হাত থাকতে পারে মোবাইলের। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ওপর পর্যালোচনা করে দেখেছেন মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে বেড়েছে ব্রেন ক্যান্সারের হার। ১৯৯৫ সালে প্রতি এক লাখে যেখানে ২.৪ জন ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতেন সেখান ২০১৫ সালে আক্রান্ত হচ্ছেন ৫ জন। গবেষণার ফলাফলটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ইনভেরনমেন্ট এন্ড পাবলিক হেলথ এ।
ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের তথ্য পর্যালোচনায় সরাসরি কোন কারণ খুঁজে পাননি গবেষকরা। তারা মূলত আক্রান্তদের জীবন যাত্রা, খাওয়া-দাওয়া সব কিছু পর্যালোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে তারা যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি পার্থক্য দেখতে পেয়েছেন সেটি হল মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার। ১৯৯৫ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে অনেক বেশি মাত্রায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছে। আর বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময়ে ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্তের হারও বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। এ কারণে তাদের কাছে মনে হয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাত্রা বাড়ার সাথে ব্রেন ক্যান্সারের একটি জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।
স্টাডি এন্ড ট্রাস্টি অব চিলড্রেন উইথ ক্যান্সার ইউকে’র প্রধান গবেষক আলাসডির ফিলিপস বলেন, ব্রেন ক্যান্সারের কারণ খুঁজতে গিয়ে মোবাইল ফোনের ভূমিকার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ব্রেন টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে কান এবং কপালের মধ্যবর্তী একটি জায়গায় সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ধীরে ধীরে তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। অর্থাৎ ব্রেন ক্যান্সারের মাত্রাকে তরান্বিত করার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, যদি মোবাইল ফোনে দীর্ঘ কথা বলার থাকে, তাহলে যেন লাউড স্পিকারে কথা বলেন।-সিএনএন
Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author