অর্ধেক খরচে ক্ষেতের ফসল কর্তন

মো. মনিরুজ্জামান ফারুক, ভাঙ্গুড়া অফিস:‘কম্বাইন হার্ভেস্টার’- একটি ফসল কাটার যন্ত্র। এ যন্ত্রটি দিয়ে ধান ও গম কাটা,মাড়াই এবং ঝাড়াই করা হয়। উন্নত দেশগুলোতে কৃষক এ মেশিন ব্যবহার করে ক্ষেতের ফসল কেটে থাকে। আমাদের দেশে এর প্রচলন তেমন একটা নেই বললেই চলে। এখানকার কৃষকেরা সনাতন পদ্ধতিতে ফসল কেটে থাকে। দেশে ধান কাটার মৌসুমে এলে দেখা দেয় তীব্র শ্রমিক সংকটের । শুধু শ্রমিক সংকট নয় শ্রমিকের মজুরীও গুণতে হয় অনেক বেশি। ফলে নতুন ফসল ঘরে তুলতে কৃষকের ব্যয় বেড়ে যায় অনেক বেশি। জানা যায়,এ যন্ত্রটি দিয়ে কম খরচে দ্রুত সময়ে ধান ও গম কাটা,মাড়াই এবং ঝাড়াই করা যায়। এতে করে যেমন কৃষকের ফসল কাটার ব্যয় নেমে আসে অর্ধেকে তেমনি প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে ক্ষেতের ফসল রক্ষা পায় ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় পাবনার ভাঙ্গুড়ার সরদার পাড়া ইয়থ ক্লাবে প্রদান করা হয় মিনি ‘কম্বাইন হার্ভেস্টার’ যন্ত্র। সম্প্রতি সরদার পাড়া মাঠে এ যন্ত্রটি দিয়ে বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন সরদার পাড়া মহল্লার কৃষক তোরাব আলীর দেড় বিঘা জমির বোরো ধান কাটা হয়। এ মেশিন দিয়ে ধান কর্তন দেখতে শত,শত মানুষ ভিড় জমায় মাঠে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. মকবুল হোসেনের প্রতিনিধি হিসেবে ডা. শফিকুল ইসলাম মিনি ‘কম্বাইন হার্ভেস্টার’ মেশিন দিয়ে ধান কর্তনের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব আমিরুল ইসলাম, সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ,উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুস্থির চন্দ্র সরকার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বর্মণসহ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে ১ বিঘা জমিতে ধান কাটতে কৃষকের খরচ হয় ৪ হাজার টাকা । আর মিনি ‘কম্বাইন হার্ভেস্টার’ মেশিন ব্যবহার করে ফসল কাটতে ১ বিঘা জমিতে খরচ লাগে ২ হাজার টাকা। এতে করে ফসল উৎপাদনে কৃষকের খরচ নেমে আসে অর্ধেকে। এ মেশিনের সাহায্যে ধান কেটে খড় সারিবদ্ধভাবে আলাদা করে ঝাড়াই-মাড়াই হয়ে পরিস্কার ধান বস্তায় জমা হয়। মেশিনটি ব্যবহার করে ঘন্টায় ১ বিঘা জমির ধান একি সাথে কাটা,মাড়াই ও ঝাড়াই করা যায়। ফসলের ক্ষতির পরিমান শতকরা ২ ভাগ যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম। যন্ত্রটি দিয়ে সামান্য কাঁদাযুক্ত জমিতেও ধান কাটা যায়। এটি চালাতে একজন চালক ও একজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। যন্ত্রটি চালানো খুব সহজ । পাওয়ার টিলার চালান এমন চালকেরা যন্ত্রটি সহজেই চালাতে পারেন। এসিআই প্রাইভেট লিমিটেডের বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কৃষক যন্ত্রটি ক্রয় করতে পারেন। যন্ত্রটির বাজার মূল্য ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা । তবে কৃষক চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শতকরা ৫০ ভাগ ভর্তুকি মূল্যে তা পেতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম বলেন, আধুনিক এ যন্ত্রটি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কবল থেকে কৃষক ফসল রক্ষা করে সহজেই লাভবান হতে পারেন। তিনি এ যন্ত্রটি ব্যবহার করে ফসল কাটতে কৃষকদের পরা

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author