বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মালিকানা বাংলাদেশ সরকারেরই জানিয়ে তিনি বলেছেন, যারা এর মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা অর্বাচীন। আসলে যারা দেশকে ভালোবাসে না, স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না তারাই এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা বলে।  এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশকে কেউ দাবায় রাখতে পারেনি, পারবে না। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।  সংসদে দশম জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি’র সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মালিকানা অবশ্যই বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সরকারই এটার মালিক। যেভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা হয়। তবে স্যাটেলাইট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যেহেতু বিভিন্নভাবে ব্যবহার হবে, যেমন টেলিমেডিসিন, ডিটিএইচ। এসব ক্ষেত্রে যে যতটুক ভাড়া নেবে সেই সেটুকুরই মালিক হবে, দুজন ব্যক্তি তো এটার মালিক হতে পারে না। এ ধরনের মন্তব্য করাটাও অত্যন্ত লজ্জাজনক।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্যাটেলাইটে ৪০টা ট্রান্সপন্ডার আছে। যেহেতু একটা স্যাটেলাইট আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। এই সময়ে আমাদের প্রয়োজন হবে মাত্র ২০টি ট্রান্সপন্ডার। বাকি ২০টি ভাড়া দিয়ে আমরা আয় করতে পারবো। আমরা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তাজিকিস্তান উজবেকিস্তানসহ বেশকিছু দেশে ভাড়া দিতে পারবো। এখানে দুই ব্যক্তি মালিকানা কিভাবে হলো সেটা আমি ঠিক বলতে পারি না। এ ধরনের কথা তারা কেন বললেন? কোনো মানুষের যদি দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকে, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নতভাবে মাথা উঁচু করে চলবে- এ ধরনের চিন্তা-চেতনা থাকে; তারা কেউ কখনো ওই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে দেশের সব মানুষ খুশিতে উদ্বেলিত, দেশ-বিদেশে সব জায়গায় জয় বাংলা স্লোগানে উদ্বেলিত, যখন উৎক্ষেপণ হলো সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। খুশিতে আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। পৃথিবীর কোনো দেশেই এভাবে খুশিতে উদ্বেলিত হতে দেখা যায়নি। যখন সকল মানুষ এতো খুশি তখন বিএনপির কেন দুঃখ? তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৪ই জুন বেদবুনিয়াতে কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ স্থাপন করে গেছেন। এরপর আমরা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করতে পারলাম। আগের সরকার আসার পর পারলো না কেন? পৃথিবীর বহুদেশ অনেক আগেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। আসলে তাদের চিন্তাভাবনা এত সংকীর্ণ; যখন এই অঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবল এসেছিল, ভারত নিয়েছে, মিয়ানমার নিয়েছে, থাইল্যান্ড নিয়েছে- সব দেশগুলো নিয়েছে। ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট-১ যখন কাজ শুরু করে দেবে তখন আর কোনো সমস্যা হবে না আমি এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। সারা দেশে যেসব অঞ্চলে এখনো কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারছে না। সাবমেরিন ক্যাবল লাইন দেয়া সম্ভব হয়নি। দেশের কোনো অঞ্চল বাদ থাকবে না। স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে সেসব অঞ্চল ইন্টারনেট সুবিধা পেয়ে যাবে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। চিন্তা করার দরকার নেই। শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, না-বলা কথাটি রবে না গোপনে।  প্রধানমন্ত্রী  আরও বলেন, এখন স্যাটেলাইটের যুগ, স্যাটেলাইট আমরা পাঠিয়েছি। এখন দেখি বিশ্বে আবার নতুন আরেকটা কি যুগ আসে। আমরা সেদিকেও যাব।’ উল্লেখ্য, গত ১১ মে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। মহাকাশে স্যাটেলাইটের প্রকৃত সময় পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ১১৯ দশমিক ১৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author