সাঁথিয়ায় ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসুচীর শ্রমিকের ১ কোটি টাকা ফেরৎ দিলেন ইউএনও

পাবনার সাঁথিয়ায় ৪০ দিনের কর্মসৃজন কাজের অনুপস্থিত ভূয়া ৫০ হাজার শ্রমিকের প্রায় ১ কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত পাঠালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। অনুপস্থিত শ্রমিক থেকে আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় চেয়ারম্যান মেম্বারদের ক্ষোভ প্রকাশ।
সরেজমিন ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, পাবনার সাাঁথিয়ায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রতি দিন ২৪০৮ জন শ্রমিক প্রথম পর্যায় কাজের সুযোগ পান। যা মোট প্রকল্পের শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ৩শত ২০ জন। প্রকল্প কাজ শুরু হলে প্রকল্প এলাকায় গণনা করে ১৮ হাজার ২শত ৮০ জন অনপুস্থিত ভ’য়া শ্রমিকের সন্ধ্যান পায় নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। প্রথম পর্যায়ের অনুপস্থিত শ্রমিকের ৩৬ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরৎ পাঠান তিনি।
দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে একই বরাদ্দকৃত শ্রমিকের ১৪ হাজার ২শত শ্রমিক অনুপস্থি পাওয়ায় প্রায় ২৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ফেরৎ পাঠানো হয়।
২০১৭/১৮ অর্থ বছরে আবার কর্মসৃজন কর্মসূচীর জন্য প্রথম পর্যায় ১ লক্ষ ২ হাজার শ্রমিরে স্থলে ১৭ হাজার ১ শত ৭৪ শ্রমিক অনুপস্থিত থাকেন। উক্ত অনুপস্থিত ভ’য়া শ্রমিকের ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা সরকারী তহবিলে পূর্ণরায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে দুই অর্থ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনুপস্থিত ভ’য়া শ্রমিকদের হাজিরার টাকা মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন বর্তমান নির্বাহী অফিসার প্রকল্পে গিয়ে হাজিরা গণনা করায় তারা ভ’য়া শ্রমিকের টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জানা গেছে উপজেলা প্রর্যায়ে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের শ্রমিকদের তালিকা ইউনিয়ন ভিত্তিক চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা করে থাকেন। এসময় বিভিন্ন ভাবে স্বজনপ্রীতির কারণে ভ’য়া শ্রমিকের নাম তালিকাবদ্ধ হয়ে থাকে।
নন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যার রবিউল ইসলাম ও ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুনসুর আলম পিনচু জানান, নির্বাহী অফিসার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে শ্রমিক গণনা করে ভ’য়া শ্রমিকের বিল কর্তন করায় এ অর্থ ফেরত গেছে। যা অন্য উপজেলা গুলোতে করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি প্রকল্পের অনুপস্থিত শ্রমিকের বিল কাটা হয়েছে। আগামীতে সঠিক তালিকা প্রণায়নে চেয়ারম্যানদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রকল্প এলাকায় যে পরিমান শ্রমিক উপস্থিতি পাওয়া গেছে ঠিক ওই পরিমান বিল পরিশোধ করেছি। অনুপস্থিত শ্রমিকের টাকা সরকারী তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author