ডাক্তার ছাড়াই তিনদিন গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুইপার দিয়ে চিকিৎসা, জনদুর্ভোগ চরমে

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
ঈদের ছুটির তিনদিন কোন ডাক্তার ছাড়াই চললো গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যহত হওয়ার পামাপামি রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
রোববার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হয় চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার বিলসা গ্রামের ঢাকা উত্তরা ব্যাংকের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, নওপাড়ার আব্দুল মতিনের সঙ্গে। তখন রাত সাড়ে ১০টা। রোববারে তারা ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে কোন ডাক্তার তাদের দেখতে পর্যন্ত আসেনি। এদিকে উপজেলার বিন্যাবাড়ী থেকে আসা আবুল কাশেম নামের বৃদ্ধ গ্যাসের সমস্যা নিয়ে বুধবারে ভর্তি হয়। ওই রাতেই তার প্রসাব বন্ধ হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ডাক্তার না থাকায় সুইপার বিশু ক্যাথেডাল পরিয়ে দেয়। এরপর থেকে তার প্রসাবের ধার দিয়ে রক্ত ক্ষরন হতে থাকে।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘ দিনের সমস্যা। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২২ মে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। অনুমোদিত পদ ২৮টি। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রায় সকল পদ শূন্য রয়েছে। কাগজে-কলমে আছে ১০ জন চিকিৎসক। বর্তমানে ৫ জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
এ উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের বাস। এ ছাড়া অবস্থানগত কারণে সিংড়া, বড়াইগ্রাম, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও পাবনার চাটমোহর উপজেলার বড় একটি অংশের রোগীরা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী বহির্বিভাগে টিকিট কাটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেকেই বিরক্ত হয়ে চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। এ ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ জন রোগী ভর্তি থাকে।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ছাড়া মাত্র ১০জন চিকিৎসক দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। হিন্দু চিকিৎসক না থাকায় ঈদের ছুটিতে আরএমও কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author