গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
পরিশ্রমি এক অসহায় পরিবারের সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম (৪১)। জমিজমা বলতে কিছুই নেই তার। ২৫ বছর বয়সে তিনি ফেরিওয়ালার কর্ম শুরু করেন। গরমের সময় আইসক্রীম ও কুলফি এবং শীতের সময় চানাচুর ভাজা ও জলপাই আচার বিক্রির মাধ্যমে তিনি কিছুটা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
এদিকে দুই উপজেলার ৩৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে ফেরিওয়ালা হয়ে শহর থেকে গ্রামগঞ্জের মানুষদের কাছে পর্যন্ত তিনি সুস্বাদু ওইসব খাবার পোঁছে দিয়ে আসছেন। তাও আবার হেটে হেটে পথ চলাচল করে। নাটোরের গুরুদাসপুর বাজারে ফেরি করতে এসে তার কষ্টের জীবনের গল্প শেয়ার করেন।
বর্তমানে আমিনুল ইসলামের পরিবারে একমাত্র তিনিই উপার্জনশীল ব্যাক্তি। তার স্ত্রী সীমা বেগম (৩৫) গৃহিনী, ছেলে শিমুল রাত্রী (৯) তৃতীয় শ্রেণীতে এবং মেয়ে চিতি আক্তার লিজা (১৩) সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছেন। চার সদস্য বিশিষ্ট সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি কিশোর বয়স থেকেই ওই ফেরিওয়ালার ব্যবসা শুরু করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।
ফেরিওয়ালা আমিনুল ইসলাম জানান- পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার চামারি ইউনিয়নের পাঙ্গাসীয়া গ্রামের মজিবর রহমান (৬৫) এর ছেলে তিনি। তার মা চার বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃদ্ধ পিতা কর্ম করতে পারেন না। তার বড় ভাই আনোয়ার (৪৫) ও ছোট বোন শাহানাজ (২৫) পছন্দমত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বৃদ্ধ পিতাকে ভাত-কাপড় দিয়ে তাদের জম্মদাতাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। দারিদ্রতার কারণে আদরের ছোট বোন শাহানাজকেও ১৪ বছর বয়সে বিয়েদেয়া হয়। তবে শাহানাজ তার স্বামীর সাথে ঢাকার এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির শ্রমিকের কাজেও নিয়োজিত আছে বলে জানায় ভাই আমিনুল।
তিনি আরও বলেন- টিনের চালা টিনের ঘর আমার। ফেরি করে মোটামোটি স্বাবলম্বি। কিন্তু এখনও ছেলে মেয়ের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেক কষ্টে গরমে রোদে পুড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে দিনযাপন করছি। ৫ টাকার আইসক্রীম বিক্রি করে দিনে আয় হচ্ছে ২শ টাকা। সৈখিন মানুষ হওয়ায় ওই উপার্জনের টাকা দিয়ে মোবাইল-সিম (০১৭৪৫৪৬১৮৭০) কিনেছি। এ সবকিছুকে সঙ্গে নিয়েই চলছে আমার জীবন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author