ভাঙ্গুড়ায় জলাশয় পুনঃখননের বরাদ্দ আত্মসাতের চেষ্টা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে একটি প্রকল্পের আওতায় ২টি জলাশয় পুনঃখননের জন্য ৩০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য বিভাগ। উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের রুপসী গ্রামের দুধসাগর জলাশয়ের জন্য ১০ লাখ ৩৮ হাজার ও পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের হাটগ্রাম গ্রামের চ-িপুর জলাশয়ের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে চ-িপুর জলাশয়ের খনন কাজ আশানুরূপ দেখা গেলেও দুধসাগর জলাশয়ে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্প কমিটির লোকজন বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সুফলভোগী এবং উপজেলা মৎস অফিসের আবেদনের প্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তর ২টি জলাশয় পুনঃখননের জন্য ৩০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। চারটি কিস্তিতে বরাদ্দের ওই অর্থ ছাড় করা হবে বলে জানায় স্থানীয় মৎস অফিস। চলতি মাসে প্রথম কিস্তির টাকা ছাড় করা হয়। উভয় প্রকল্পের কমিটির চেয়ারম্যান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা বলে জানা গেছে। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের রুপসী গ্রামের দুধসাগর প্রকল্পের ০.৬৫ হেক্টর আয়তনের জলাশয় পুনঃখননের কাজ শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহে। প্রথম চার দিন ৩২ ঘন্টা এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে ও পরের ৫ দিনে সর্বমোট ১৫০ জন শ্রমিক দিয়ে কিছু কাজ করা হয়। তবে খননের মাটি দেড় লক্ষাধিক টাকায় জলাশয়ের পাড়ে বসবাসকারী শাহিবুল ইসলাম, আলহাজ আলী ও হযরত আলী সহ কয়েকজন ক্রয় করেন বলে তারা জানান। পরে পুকুরের তলায় বৃষ্টির পানি জমে মাটি কাঁদা হয়ে যায়। এরপর শ্যালো মেশিন লাগিয়েও আর খনন করা যায়নি। ফলে জলাশয়টিতে ৬৭৫৭.৩৭ ঘন মিটার মাটি কাটার লক্ষমাত্রা থাকলেও তার ২৫ শতাংশ কাটাও সম্ভব হয়নি। কিন্তু কাজের শুরুতেই বরাদ্দের ২লাখ ৩১ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা রহমত আলী সম্পুর্ণ কাজ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ’উপর মহলের নির্দেশে কাজ করা হচ্ছে। এখানে তাহার কিছু করার নেই।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান প্রকল্পের কমিটির একাধিক সদস্য এবং পূর্বের কমিটির সদস্য শাখাওয়াত আলী ও আক্কাস আলী অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সরকার দলীয় প্রভাবশালী লোকজন সম্পুর্ন কাজ না করেই বরাদ্দের সব টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে চ-িপুর জলাশয়ের খনন কাজের অগ্রগতি নিয়ে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেন। কাজের অগ্রগতি নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, ’চাটমোহর উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম জলাশয় পরিদর্শন করে খনন কাজের পরিমাপ করেছেন। পরে টিমের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাদ্দের অবশিষ্ট টাকার চেক প্রদান করবেন। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ না হওয়ায় মোটা অংকের টাকা ফেরত যাবে বলে তিনি জানান।’ এ বিষয়ে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। এঅবস্থায় এলাকাবাসী দুধসাগর জলাশয়টি পুনঃখননে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author