ভেস্তে যেতে বসেছে চিকিৎসা সেবা গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভেঙ্গে পড়েছে চিকিৎসা সেবা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী ও আউটডোর বিভাগের সামনে গুরুদাসপুর উপজেলা এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, সিংড়া ও তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন রোগাক্রান্ত রোগিদের প্রকট ভীড়। অথচ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কর্তব্যরত থাকার কথা। কিন্তু মাত্র ৫ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তাও তার অফিসে বসে রোগি দেখা শুরু করেছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিধিমোতাবেক ৯ জন কনসালটেন্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, অর্থপেডিকস, গাইনী বিভাগের চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৪ জন কনসালটেন্ট দিয়ে চলছে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ল্যাব এ্যাসিসটেন্ট নেই। ইপিআই বিভাগে মাত্র ১ জন অদক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা কোনমতে জড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। রোগিদের চিকিৎসার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম থাকলেও সঠিকভাবে তা ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়নি। কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসাররা দীর্ঘদিন যাবৎ আগত রোগিদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করে আস্বস্ত করে চলছেন।
গুরুদাসপুর পৌরসদরের চাঁচকৈড় বাণিজ্যনগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ মো. সামসুল হক শেখ ক্ষোভ ও দু:খ ভরা মনে বলেন,- ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগীসহ বনপাড়া হাটিকুমরুল মহাসড়কের দূর্ঘটনা কবলিত আহত রোগিরা জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
বিশেষ করে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের অভাবে ডাক্তার রবিউল করিম শান্ত নামের জনৈক মেডিকেল অফিসার প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্দেশে মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করে কোনরকম ইজ্জত বাচাচ্ছেন। এছাড়া ডাক্তার শ্রদ্ধা নিবেদিতা পাল নামে জনৈক গাইনী বিশেষজ্ঞ গত মে মাসের মাঝামাঝিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাদান করে ৮ জুন থেকে এখনও ছুটিতে আছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সার্জারী বিশেষজ্ঞ, কার্ডিওলজিষ্ট ও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিসৎক থাকার বিধান থাকলেও এসবের কোন বালাই নেই। আবার জরুরী বিভাগে একজন অফিস সহকারি থাকার নিয়ম থাকলেও সেটাও নেই। সুইপার বা ঝাড়–দার ৫ জনের মধ্যে রয়েছে ৩ জন। তার মধ্যেও দীর্ঘদিন যাবৎ একজন অসুস্থ। নিরাপত্তা প্রহরী ৩ জন থাকার কথা কিন্তু রয়েছে মাত্র ১ জন। সেখানে কোন সার্জারী বিশেষজ্ঞ নেই বলে অবসকারী বিশেষজ্ঞকেও নিয়োগ দেয়া হয়নি।
এসব ব্যাপার নিয়ে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে এ্যাম্বুলেন্স সংকট, মুমূর্ষ রোগিদের চিকিৎসার জন্য নাটোর বা রাজশাহীতে রেফার্ড করতে অধিকাংশ সময় রোগি বহনকারী এ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। রেফার্ড করা রোগিদের বহনের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসরকারি ২-৩ টি এ্যাম্বুলেন্স সব সময় অবস্থান করে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটিমাত্র এক্স-রে মেশিন এক যুগ ধরে বিকল হয়ে জলহস্তির মত ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। নতুন এক্স-রে মেশিনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস ডিও লেটার দিলেও সমস্যাটির কোন সমাধান হচ্ছে না।
এদিকে জরুরী ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলামের ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ী বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে গাড়ী না দিয়ে সোহেল রানা নামের জনৈক যুবককে ওই না দেয়া গাড়ীর ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে গাড়ী সরবরাহ না করলে নিয়োগকৃত ড্রাইভার বসে বসেই সরকারি বেতন-ভাতা খাবেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author