ভাঙ্গুড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মোকছেদুর রহমানের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধারা মোঃ মোকছেদুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ জাল বলেও উল্লেখ করেছেন।
উপজেলার লাল তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান আলী, মোহাম্মদ আলী ও আমির হোসেন (বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা) সহ ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধা গত বছর ২২ আগষ্ট দুদকের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত এ অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগে উল্লেখ করেন, মোঃ মোকছেদুর রহমান জাল সনদে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে একটি মহলের আর্শীবাদে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হন। কমান্ডার হওয়ার পর থেকেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের ছকির উদ্দিন মিলিটারী, আদাবাড়ীয়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন, চ-িপুর গ্রামের মুজিবুর মাস্টার ও রহমান দারোগাসহ অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাইয়ে দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছকির মিলিটারী সহ একাধিক জনের সম্মানী ভাতা বন্ধ আছে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের সময় তিনি একটি চক্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া কমান্ড কাউন্সিলে সরকার প্রদত্ত বরাদ্দের অর্থ বিভিন্ন ভুয়া খাত দেখিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলেও তারা অভিযোগে উল্লেখ করেন। কমিশন অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পাঠাতে পাবনা জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসক চলতি বছরের ১২ জুন লিখিত আদেশের মাধ্যমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতিকে শুনানী করে দ্রুত প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২৫ জুন শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। কিন্তু মোঃ মোকছেদুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে শুুনানী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুনানী কার্যক্রম স্থগিত করেন। এনিয়ে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধারা সাংবাদিদের বলেন, নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতি করে দাপটের সঙ্গে একনায়কত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন কমান্ডার মোকছেদুর রহমান। তার এসব অনিয়মের কারণে অবৈধ মুক্তিযোদ্ধাদের দাপটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এ কমান্ডারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মোকছেদুর রহমানের বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি কোনো অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেননি।’ এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে শুনানী কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author