চাটমোহরের আলোচিত শিশু নূর হত্যা মামলার রায় আজ

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) চাটমোহর উপজেলার আলোচিত চাঞ্চল্যকর শিশু আব্দুল্লাহ্ আল নূর (৪) হত্যাকান্ডের রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য্য রয়েছে। রাজশাহীস্থ দ্রুত বিচার টাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক এই রায় ঘোষণা করবেন মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, চাটমোহর পৌরসদরের হারান মোড় মহল্লার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আবুল হোসেনের ৪ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ্ আল নূর (৪) ২০১৪ সালের ২৫ জুন বুধবার সকাল ১১ টার দিকে নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুজি করেও নূরের সন্ধান না পেয়ে পরিবারটি পুলিশ সহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি শিশুটির সন্ধান চেয়ে মাইকিং ও করা হয়।
নিখোঁজের দু’দিন পর ২৭ জুন ২০১৪ শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় ভাদড়া মাঠের দক্ষিণ পাশের জলমগ্ন আবাদি জমি থেকে মাথা, দু’টি হাত, নাড়িভূড়ি বিহীন এবং দু’পায়ের কুকচির পাশে গভীর ধাঁরালো অস্ত্রাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত পঁচা দূর্গন্ধযুক্ত বিকৃত একটি শিশুর মৃতদেহ পলিথিন ব্যাগে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয়। একই স্থান থেকে অপর একটি পলিথিন ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা দু’টি হাত। শিশুটির পিতা আবুল হোসেন মৃতদেহটি তার সন্তান আব্দুল্লাহ্ আল নূরের মর্মে সনাক্ত করেন। মাঠে উপস্থিত শত শত নারী-পুরুষ নর-পশু জল্লাদরূপী হত্যাকারীর পৈশাচিকতায় স্তব্ধ হয়ে যান। পুলিশ এদিন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে আবুল হোসেনের বাড়ির নীচতলার ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাস (৩৮) কে আটক করে।
এ ঘটনার পরেরদিন ২৮ জুন ২০১৮ শনিবার বিকেলে আবুল হোসেনের বাড়ির অদূরে হারান মোড় ব্রীজের পাশ থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা। এদিন পুলিশ কর্মকর্তারা ভাড়াটিয়া সোহেলের ঘর ও ঘরের আশপাশে তল্লাশী চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে সম্পর্কযুক্ত বেশকিছু আলামত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে নিষ্পাপ শিশু আব্দুল্লাহ্ আল নূরের লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা এবং প্রকৃত অপরাধিদের আইনের আওতায় নিয়ে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি’র দাবীতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চাটমোহর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৪ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার চাটমোহর থানা মোড় আমতলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। চাটমোহরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ ও সংহতি প্রকাশ করেন।
হত্যাকান্ডের শিকার শিশুটির পিতা আবুল হোসেন বাদী হয়ে ২৭ জুন ২০১৪ তারিখে ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে প্রধান অভিযুক্ত করে সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রীসহ অন্তত: ৬ জনকে বিবাদী করে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার অপর বিবাদীগণ বিভিন্ন সময়ে জামিন লাভ করলেও বিজ্ঞ আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল বিশ্বাসকে অদ্যবধি কারাগারে আবব্ধ রেখেছেন।
মামলাটি পাবনা নারী ও শিশু বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বেশকিছু দিন পরিচালনার পর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার টাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। দ্রুত বিচার টাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক স্বাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ সাপেক্ষে ঘটনার প্রায় ৪ বছর পর বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার তারিখে নির্ধারণ করেছেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চাটমোহর উপজেলা শাখার সভাপতি ও চলনবিলাঞ্চলের সদরদপ্তর নিয়োজিত বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক কে. এম. বেলাল হোসেন স্বপন বলেন, “বিকৃত রুচির খুনি বা খুনিরা একটি নিষ্পাপ শিশুকে, যে প্রক্রিয়ায় জঘন্যভাবে হত্যা করেছে, তা সত্যিই লোকহর্ষক একটি বিষয়। আশারাখি বিজ্ঞ আদালত হত্যাকান্ডের প্রতিটি নির্মমতার প্রতি দৃষ্টি রেখে অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রায় ঘোষণা করবেন।”

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author