ইছামতি নদীকে অবৈধ দখল মুক্ত করতে শিগগির উচ্ছেদ অভিযান : নদী রক্ষার আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ——-জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার

পিপ: সাবেক সিনিয়র সচিব ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, ‘পাবনা শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীকে খুব শিগগির অবৈধ দখল মুক্ত করা হবে। নদী দখলকারীরা যত বড় শক্তিশালী হোকনা কেন তাদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা। তিনি বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে না, যারা অবৈধ দখল করে আছেন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করে জেলে ঢুকানো হবে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে আর কোন নোটিশ দেওয়া হবেনা। সিএস খতিয়ান ধরে নদী উদ্ধারে উচ্ছেদ শুরু করা হবে। তিনি অবৈধ দখলদারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাবনা সফর করবেন, আপনার এর আগেই স্বেচ্ছায় দখল ছেড়ে চলে যান, অন্যথা পরের পর দিন থেকেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, যারা ইছামতি নদী রক্ষার আন্দোলন করছে স্বার্থন্বেষীরা তাদের কে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে শায়েস্তা করতে পারে তাই তাদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল বুধবার পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এ কথা বলেন। পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. শাফিউল ইসলামের সঞ্চলনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষনিক সদস্য মো: আলাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে ইছামতি নদীর উপর স্টাডি বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের শিক্ষক প্রফেসর ড. রেজাউর রহমান। ইছামতি নদীর বিস্তারিত তুলে ধরেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম জহুরুল হক। সভায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর আরও বক্তব্য রাখেন, সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের রোকন, আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহুরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিয়ুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আমিরুল হক ভূঁইয়া, পাবনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তাবিবুর রহমান, পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ সভাপতি আব্দুল মতীন খান, ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলনের উপদেষ্টা মো: মাহবুব উল আলম মুকুল, ক্যাব সভাপতি সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান, ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলনের সভাপতি দৈনিক সিনসা সম্পাদক এস এম মাহবুব আলম, বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, শিক্ষক নেত্রি হাসিনা আক্তার রোজী, অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস প্রমুখ। জেলার সকল ইউএনও এবং সকল দফতরের প্রধানগন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সভায় পাউবো কর্মকর্তারা জানান, পাবনা শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদী পদ্মা নদীর শাখা হয়ে যমুনা নদীতে মিশেছে। এই নদী পথে ভারতের কোলকতা, নদিয়া, হুগলি এবং দেশের মধ্যে ঢাকা নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন করা হতো। এই নদীপথে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুর এবং কুষ্টিয়ার শিলাইদহ যাতায়াত করেছেন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরোয়ার্দ্দী, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই নদী দিয়ে নৌপথে পাবনায় এসেছেন। কিন্তু কালক্রমে দখল ও দুষণে অস্তীত্বহীন হয়ে পড়ে নদীর আশপাশ। এক সময়ের দীর্ঘ ও স্্েরাতস্বীণী এই নদী ভরাট হতে হতে ময়লা আবর্জনার ভাগারে পরিনত হয়। অনেকে এটিকে মশা উৎপাদনের খামার হিসেবেও অভিহিত করেন। পাবনার বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন এই নদী উদ্ধার ও খননের দাবী তুললেও তা বাস্তব রুপ নেয়নি।

এর আগে খেয়াঘাটে ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলনের আহ্বায়ক এস.এম.মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নদী কমিশনের স্থায়ী সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন এবং জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন। দ্রুত নদী খনন করার দাবী করে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ ( অবঃ) আলহাজ্ব মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বেলাল হোসেন, সামছুল হুদা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এনামূল হক টগর, খয়ের সুতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল হক জিয়া, ইমাম গায্যালী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানা, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ( অবঃ) প্রফেসর আব্দুল করিম, অধ্যক্ষ ( অবঃ) ইদ্রিস আলী বিশ্বাস,আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পাওনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জেবুন্নেসা ববিন, পাবনা আলিয়া মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম ও অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, ইউনুস আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নওশের আলী মন্টু, সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার রোজী, পাবনা সেন্ট্রাল গালর্স স্কুলের প্রধান শিক্ষক তালেবুর রহমান, পাবনা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ, আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার, ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলনের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, শফিক আল কামাল, পাবিপ্রবির জহুরুল ইসলাম প্রিন্স, সহকারী অধ্যাপক আশরায় আলী, মানবাধীকার কর্মী জাহানারা বেগম বিজলী প্রমুখ। জনসভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, স্কাউটস দল এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author