বেড়ায়  একই পরিবারে তিন খুনের ঘটনায় মুল আসামী ঘাতক তুহিন গ্রেফতার।

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ
পাবনার বেড়ায় মা, ছোট ভাই ও খালাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার দুই দিনপর শুক্রবার (৬জুলাই) ভোর রাতে খুলনা জেলার ফুলতলা থানা এলাকা বেজেরডাঙ্গা গ্রাম থেকে মুল আসামী ঘাতক তুহিন (২৫) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এব্যাপারে গতকাল শনিবার (৭জুলাই) তুহিন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে বেড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাসান গতকাল শনিবার (৭ জুলাই) বিকাল ৪টার সময় বেড়া মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিপিং এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানান, গত শুক্রবার (৬জুলাই) ভোর রাতে খুলনা জেলার ফুলতলা থানা এলাকা বেজেরডাঙ্গা গ্রামের জনৈক ফেরদৌস মেম্বারের বাড়ি হতে মা, ছোট ভাই ও খালাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মুল আসামী ঘাতক তুহিনকে (২৫) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে পুলিশের কাছে তিনখুনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তুহিন পুলিশকে জানিয়েছে, তার স্ত্রী রুনা খাতুনকে বিভিন্ন সময় বাড়ির লোকজন কটুক্তি এবং আজেবাজে কথা বলায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে খালা মরিয়ম ওরফে নসিমনকে ডেকে বাড়ির বাইরে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে মনের আক্রোশে রাত্রি সাড়ে তিনটার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাসহ বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় তুহিনের মা তসলিমা খাতুন ওরফে বুলি খাতুন ছোট ভাই তুষার নসিমনকে বাঁচাকে এলে তাদেরকেও এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তুহিনের স্ত্রী রুনাকে (১৯) জিঞ্জাসাবাদ করে ছেরে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য গত বুধবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার সময় বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নে সোনাপদ্মা চারা বটতলা গ্রামের মোঃ মিঠু মিয়ার ছেলে তুহিন (২৫) একটি ধারালো চাপাতি নিয়ে বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা তার ছোট ভাই তুষার (১০), মা বুলি খাতুন (৪৫), খালা নসিমন খাতুন (৫০) কে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সকালে তিনঁজনের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তুহিনের স্ত্রী রুনা (১৯) কে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। তার জবানবন্দি অনুযায়ী পুলিশ গত শুক্রবার (৬জুলাই) মুল আসামী ঘাতক তুহিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বেড়া মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এ ঘটনায় দুই বোনের ছোট ভাই এবং মৃত তুষারের মামা মোঃ মিজানুর রহমান বাদি হয়ে বেড়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার সাঙ্গে জড়িত তুহিনকে গ্রেফতার করেছে। সে পাবনা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author