নির্মাণ শুরুর এক যুগ পর স্বপ্নের ব্রিজের উদ্বোধন

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) থেকে ঃ দীর্ঘ এক যুগ পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের প্রচেষ্টায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া-নওগাঁ সড়কের নৌবাড়ীয়া ব্রিজের নির্মাণ কাজের সমাপ্তি হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় সদ্য নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া ৩১ টি প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এ ব্রিজটির উদ্বোধন করেন। এলজিইডির ভাঙ্গুড়া কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই সরকারের আমলে সেতুর দুবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, আটবার দরপত্র আহ্বান ও চারবার ঠিকাদার পরিবর্তন করার মধ্য দিয়ে মূল ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলতি মাসে শেষ হয়। ১৮০ দশমিক ২৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রথমে ধরা হয় ছয় কোটি ৮২ লাখ টাকা। কিক্তু বারবার দরপত্র পবির্তনের কারণে কাজটি শেষ হয় আট কোটি টাকায়। জানা যায়, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার এ নদীর ওপর একটি সেতু করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর বিএনপির স্থানীয় সাংসদ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রথম দফায় ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ নিয়েছিল। আংশিক কাজ করার পর হঠাৎ কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে যান। এরপর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নাটোরের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানটিও কিছু কাজ করে চলে যায়। ২০১২ সালের ১৭ মে আবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদ মকবুল হোসেন দ্বিতীয় দফায় সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেসময় আমিন ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালের প্রথমদিকে কাজ শুরু করে। কিন্তু ৫৮ ভাগ কাজ হওয়ার পর তারাও চলে যায়। সবশেষে সংসদ সদস্যের তদারকিতে ২০১৬ সালের শুরুতে চতুর্থবারের মতো পাবনার বেড়া উপজেলার আইটি এন্ড এম এ জে ভি নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মূল ব্রিজের কাজ শুরু করে চলতি বছরে তা সম্পন্ন করে। এখন ব্রিজের দু’পাশে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, নদীর এপারে পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদর, ওপারে ভাঙ্গুড়ার কিছু অংশসহ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলা। ফলে পাবনার এ অংশের বাসিন্দারা এ নদী পার হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। ব্রিজটি উদ্বোধনের ফলে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেলো। এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, স্বপ্নের সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী পূরণ হলো। সেই সাথে উপজেলার দুর্গম এলাকার সাথে সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হলো। উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ঠিকাদারদের গাফিলতি থাকা সত্বেও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ও প্রশাসনের আন্তরিকতার ফলে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author