পাটের ভাল দাম পেয়ে চাটমোহরের কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ::
পাটের ভাল দাম ও ফলন পাওয়ায় লাভ করতে পেরে চলতি পাট চাষ মৌসুমে চাটমোহরের পাট চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। অনেক কৃষক ইতি মধ্যেই পাট ধুয়ে শুকিয়ে ফেলেছেন, অনেকে কাটছেন, অনেকে আবার পাট পচানোর জন্য পানিতে জাগ দিয়েছেন। চাটমোহর কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে পাট চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৭হাজার ৩শ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৮শ৬৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪শ৩৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ কম হয়েছে।
উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের চরসেন গ্রামের পাট চাষী মোজাহার আলী এ বছর চার বিঘা জমিতে তোষা পাট চাষ করেছেন। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে চাষ বাবদ ৯শ টাকা, বীজ বাবদ ১শ ২০ টাকা, ড্যাপ পটাশ ও ইউরিয়া সার বাবদ ১ হাজার টাকা, আগাছা নাশক বাবদ ৩শ টাকা, দুই দফা নিড়ানো বাবদ ২ হাজার ৪শ টাকা, কাটা বাবদ ১ হাজার ৫শ টাকা, কাটা পাট পরিবহন ও জাগ দেয়া বাবদ ১ হাজার ৫শ টাকা, ও শুকানো বাবদ ৬শ টাকাসহ মোট ৮ হাজার ৩শ ২০ টাকা খরচ হয়েছে। মানুষ পাটের আশ ছড়িয়ে ধুয়ে দিয়ে পাট কাঠি নিয়ে যাওয়ায় পাটের আঁশ ছড়ানো ও ধোয়া বাবদ কোন টাকা খরচ হয় নি তার। পাটের ফলন পাওয়া যাচ্ছে বিঘা প্রতি ১০ মন। বর্তমান চাটমোহরের হাট বাজারে প্রতি মন তোষা পাট ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে চার বিঘা জমিতে পাট চাষে ৩৩ হাজার মতো খরচ হয়েছে তার। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ৪০ মন পাট বিক্রি করে তিনি ৮০ হাজার টাকার মতো পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের পাট চাষী সিদ্দিকুর রহমান জানান, দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। এতে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। এ জমি থেকে তিনি ১৫ মন পাট পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় পাটের ভাল ফলন হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষক ভাল দাম ও পাচ্ছেন। ব্রীধান ৪৮ জাতের আউশ ধানের ফলন ভাল হওয়ায় এবং প্রণোদোনার বীজ পাওয়ায় চাটমোহরের অনেক কৃষক এ বছর পাট চাষের পরিবর্তে আউশ আবাদে ঝুঁকে পরেন। ফলে পাট চাষের পরিধি কিছুটা কমে যায়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author