পাবনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার  জাতির জনকের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড ও পোষ্টার

রফিকুল ইসলাম সুইট : পাবনার সুজানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড,ফেস্টুন, ব্যানার ও পোষ্টার। মাঝে মধ্যেই বিলবোর্ড, ফেস্টুন, ব্যানার ও পোষ্টার ছেড়ার ঘটনা ঘটছে এই এলাকায়।জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতিপক্ষরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন মনে করেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে সুধিসমাজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই প্রতিকার চেয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনা-২ নির্বাচনী এলাকায় বিষেশকরে সুজানগর উপজেলায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামীলীগসহ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ব্যানার পৈষ্টুন পোষ্টার লাগিয়ে এলাকা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রচার প্রচারনা নিয়ে দলীয় একাধিক গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। এক গ্রুপ অপর গ্রুপের পোষ্টার ব্যানার ভাংচুর, ছিড়ে ফেলা ও বিকৃতি করছেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননার ঘটনা ঘটছে অহরহ। লংঘিত হচ্ছে জাতির জনক সুরক্ষা আইন। সুধি মহলও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা ও বিরুপ মন্তব্য। আইন শৃংখলা বাহিনীর নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক উপ সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জল অভিযোগ করে বলেন, জাতির জনকের শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোষ্টার লাগানো হয়। এসব বিলবোর্ডে শুধুমাত্র জাতির জনকের ছবি ছিল। কতিপয় দূর্বৃত্ত বিলবোর্ডগুলো ভেঙ্গে ছিড়ে নষ্ট করছেন। এতে জাতির জনকের অবমাননা করা হয়েছে। যারা জাতির জনকের ছবি অবমাননা করে আর যাই হোক তারা আওয়ামী লীগ করে না তারা আওয়ামী রুপী বিএমপি-জামাতের গুপ্তচর। যারা এমন কাজ করছেন, আমি তাদের নাম বলতে চাই না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলছি আমার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপই এ ঘটনার সাথে জড়িত। তিনি আরো বলেন, আসন্ন জাতিয় সংসদ নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। মাঠে কাজ করছি জনগন আমাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করায় তারা আমার উপর ইর্ষান্বিত হয়েই এই ঘৃনিত কাজ করছেন।
এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যারা এমন কাজ করেছে তারা অবশ্যই একটি ঘৃনিত কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লুতফর রহমান নামের এক ব্যাক্তি জাতির জনকের বিকৃত করা ছবিগুলো আপলোড করে লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধুও গ্রুপিং রাজনীতির স্বীকার”। ফেসবুকেই লুতফর রহমানের এমন বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে অনেকেই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক আওয়াল কবির জয় বলেন, যরাই এ ধরনের কাজ করেছেন, তাদের খুঁজে বের করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সুজানগর থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে তাহলে কেউ আমাদের নিকট অভিযোগ দিলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। যারাই এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হোক না কেন আমরা তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author