প্রধান শিক্ষক দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত! ক্লাস চলছে ভাড়াটিয়া শিক্ষক দিয়ে

ভাঙ্গুড়া অফিস ঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত দিলপাশার ইউনিয়নের শত বছরের পুরাতন ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিলপাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৫ জন। বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪ জন। এদের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ও একজন ডিপিএড প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তাই বিদ্যালয়ের ক্লাস নেওয়ার জন্য এখন শিক্ষক আছে মাত্র দু’জন। এদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান সিদ্দিকি ওরফে হেলাল খান তথাকথিত ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন। তাছাড়া তিনি চাকুরী বিধিমালা অমান্য করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়েও পাশ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার একটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বর্তমানে শিক্ষক সংকটে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান সিদ্দিকি ওরফে হেলাল খান একটি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকায় তার পরিবর্তে একজন ‘ভাড়াটিয়া শিক্ষক’ দিয়ে বিদ্যালয়টিতে ক্লাস করান। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অবহেলার সুযোগে অবশিষ্ট একজন সহকারি শিক্ষক রাশিদুল ইসলামও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হয় না। চলতি সপ্তাহের শনিবার, রবিবার ও সোমবার অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি ও কমিটির সদস্যরা জানান, ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত না গিয়ে সুবিধামত একদিন হাজির হয়ে খাতায় কয়েক দিনের স্বাক্ষর একবারে করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মকবুল হোসেনের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় একাধিকবার অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছেন শিক্ষা প্রশাসন। এরই মধ্যে ওই এলাকার সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ওই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্যত্র ভর্তি করেছেন। স্থানীয়দের অভিমত, এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কিশোর কুমার জানান, একি ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট ইতপূর্বে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। বর্তমানে বিদ্যালয়টির চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ও একজন ডিপিএড প্রশিক্ষণে আছেন। তাই অবশিষ্ট শিক্ষক দু’জন ঠিকমত বিদ্যালয়ে না আসায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দিলপাশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অশোক কুমার ঘোষ প্রণো জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান সিদ্দিকি নিজেকে ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে কমিটিকে অবজ্ঞা করে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হয় না। শুনেছি সে নাকি অন্য একটি কলেজেও চাকুরি করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author