প্রতিবন্ধীদের আশার আলো চলনবিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়

সোহেল রানা সোহাগ,তাড়াশঃ চলনবিলে প্রতিবন্ধীদের আশার আলো চলনবিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়। সমাজের অবহেলিত অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের জন্য চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কামাশোন গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে চলনবিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয় । বিলের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেড়ে ওঠা পরিবারগুলোতে জন্ম নেওয়া অটিষ্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুগুলোর শিক্ষা নেওয়ার কেন্দ্রস্থল এটিই। বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে এলাকার প্রতিবন্ধীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জহুরুল ইসলাম,রেজাউল করিম,আতিকুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের যৌথ প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ শ’ জন। সুযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ২০ জন। ব্রেইলী ও সাংকেতিংক সহ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপযোগী পদ্ধতীতে শিশু শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয় এই বিদ্যালয়ে। রয়েছে বিনোদনের সুযোগও । সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গম বিলাঞ্চলের বাবা-মা তাদের প্রতিবন্ধী ছেলে- মেয়েদের নিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছেন। আবার ক্লাস শেষ হলে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার দীঘি সগুনা গ্রামের বাগ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিলাঞ্চলের প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে এই বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আতিকুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কে দেখে অনুপ্রানিত হয়ে অন্য তিন সহযোগীকে নিয়ে সমাজের অবহেলিত, অটিষ্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিদ্যালয়টি গড়েছি। চলনবিল অঞ্চলের প্রতিবন্ধী শিশুরা পরিবারের বোঝা না হয়ে যেন দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে পারে এটি আমাদের এক মাত্র আশা। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন বলেন, চলনবিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়ে অবহেলিত অটিষ্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author