Main Menu

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-০৩ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. স. ম. আব্দুর রহিম পাকন

অনলাইন ডেস্ক:দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. স.ম. আব্দুর রহিম পাকন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর) আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এম.পি প্রার্থী হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ব্যাক্তিত্ব, নীতি আদর্শে ও আন্তরিকতায় ঐ অঞ্চলে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছেন।

১৯৫৩ সালে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুর রহমান পাবনা রেজিষ্ট্রি অফিসে চাকরি করতেন। ৭ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি ২য়। ছোটবেলা থেকেই মানুষের বিপদে আপদে ছুটে যাওয়া, বিভিন্ন সামাজিক সেচ্ছা সেবমূলক কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করা তাঁর কাছে অত্যান্ত প্রশান্তির বিষয় ছিল। লেখা পড়া ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থপতি শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ১৯৬৭ সালে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগ দেন। শুরু হয় তাঁর বর্ণঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনীতি করার কারণে তার বাবা তাঁকে বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছিলেন। তবুও মায়ের আদরের আড়ালে তিনি পিছুপা হননি রাজনীতি থেকে।

১৯৬৭ সালে পাবনার ঐতিহাসিক ভূট্টা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ছয় দফা ও ছাত্রলীগের ১১ দফাসহ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার পাবনায় আন্দোলন গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কা প্রতীকের বিজয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ ১৯৭০ সালের অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনিসহ দুই ভাই ও মামা সাবেক এম সি এ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) মরহুম আব্দুস সালাম ভারতে যান। ভারতে যাবার পর তারা সহোদর তিন ভাই দেরাদুনে উচ্চতর বি এল এফ (মুজিব বাহিনী) প্রশিক্ষণ নিয়ে পাবনার বিভিন্ন অঞ্চলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর জাতীর জনকের আহ্বানে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে লেখাপড়া ও ছাত্র রাজনীতি চালিয়ে যান। ১৯৭০-৭২ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হলে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের পরামর্শে ভারতে চলে যান। ভারতে বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা হয়। ১৯৭৭ সালে আত্মগোপন থাকাবস্থায় ঢাকায় এসে তৎকালীন সামরিক বাহিনীর হাতে তিনি আটক হন। তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অজ্ঞাতস্থানে রেখে আড়াইমাস ধরে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। এর পর তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় কারাগারে পাগলা ঘন্টার নির্যাতনও তাকে সইতে হয়। এ নির্যাতনের জের এখনও তাকে বহন করতে হচ্ছে। তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সেলে রাখা হয় সেখানে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামানকেও রাখা হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে নৃশংস হত্যার কারণে তিনি অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন নাই। কারাগার থেকে মুক্তি পাবার পর ২/২ তিনি পুনরায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারণে তিনি লেখাপড়া সমাপ্ত করতে পারেননি। তাই ১৯৭১ সালে ভারতের কলকাতায় প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী ও সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত তার চাচা মরহুম এম হোসেন আলীর সহযোগীতায় ১৯৮১ সালে তিনি অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আবাস গড়েন। ১৯৮৩ সালে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থায় যোগ দেন। ভিয়েনায় দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সচিব সহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন সার্বিক সহযোগীতা করেন।
এদের মধ্যে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী নুরুদ্দিন খান, বর্তমান প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম প্রমুখ। তিনি আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থায় চাকরির সুবাদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থায় চাকরিকালীন নেতৃত্বে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন। ১৯৮৮-২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫ বছর বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার কর্মচারী পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে তার কর্মদক্ষতায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা তাকে ‘মেরিট এওয়ার্ড পদক’ প্রদান করেন। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (ওঅঊঅ) শান্তিতে “ঘড়নবষ চৎরুব”-প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থায় কর্মরত থাকায় তিনি এই নোবেল পুরস্কারের একজন গর্বিত অংশীদার।
২০০১-২০১২ সাল পর্যন্ত একটানা বার বছর তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থায় কর্মচারী পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে (চ্যারিটি ইভেন্ট) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে ‘চ্যারিটি ইভেন্ট’ অনুষ্ঠানটি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘টিম এওয়ার্ড পদক’ তিনি লাভ করেন। এ সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল নিজ হাতে তাকে পদক তুলে দেন। তিনি ভিয়েনায় চাকরিকালীন দেশে এসে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বইমেলায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন।
তিনি অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা, নিরহংকার ও সাদা মনের কর্মীবান্ধব মানুষ। ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। তার স্ত্রী সন্তানরা ভিয়েনায় অবস্থান করলেও তিনি মাতৃভূমির টানে পাবনায় ফিরে আসেন। জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টাসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এক বিশেষ সাক্ষাতকারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.স.ম. আব্দুর রহিম পাকন জানান, ভিয়েনায় সরকারি চাকরি করেছি। সেখানে থাকলে হয়তো অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। নাড়ির টানে সবুজ শ্যামল বাংলার মায়ায় দেশে ফিরে জীবনের শেষ কয়টা দিন মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে জীবন উৎসর্গ করতে চাই। সে লক্ষে এ আসনটি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিলে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, দূর্নীতি ও মাদকের ভয়াল আগ্রাসন নির্মুল করার প্রত্যয়ে দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে নিজেকে উৎসর্গ করবো। ‘ইনশাল্লাহ’।