কিশোরীর গর্ভের যমজ নবজাতকের মৃত্যু

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
আড়াই বছর আগে বিয়ে হয় রফিকুল-সোহাগী দম্পতির। বিয়ের সময় সোহাগীর বয়স ছিলো ১৪ বছর এবং রফিকুলের বয়স ছিলো ১৯ বছর। দু’জনের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে। সে সময় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হেদায়েতুল হক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। কিন্তু রফিকুলের পিতা আব্দুল জলিল ও সোহাগীর পিতা শহিদুল ইসলাম পরদিনই গোপনে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাঁদের সন্তানের বিয়ে দেন। বিয়ের পর রফিকুল ভ্যান গাড়ী চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালিয়ে নেন। এরইমাঝে বিয়ের দেড় বছরের মাথায় সোহাগী গর্ভবতী হন। কিন্তু দুটি পরিবারই মূর্খ ও অসচেতন হওয়ায় সোহাগীর প্রতি কারোরই তেমন নজর ছিলোনা। এমনকি তাঁরা সোহাগীর নূন্যতম স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা পর্যন্ত করেননি। এঅবস্থায় শুক্রবার ভোর রাতে নিজ বাড়িতে স্থানীয় অদক্ষ ধাত্রীর তত্বাবধায়নে সোহাগী সাড়ে সাত মাস বয়সী অপরিণত যমজ পুত্র সন্তান জন্ম দেন। এসময় নবজাতকদ্বয়ের অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। তখনও কেউই তাঁদেরকে হাসপাতালে নেননি। একপর্যায়ে জন্মের ৬ ঘন্টা পরে কিছুক্ষণের ব্যবধানে নবজাতক সহোদর মারা যায়। এঘটনায় পরিবার দুটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাথরঘাটা গ্রামের ইউপি সদস্য জুয়েল হাসান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেষ্টার পরেও এই বাল্যবিয়ে রোধ করা যায়নি, এটা বাল্যবিয়েরই কুফল।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author