ভাঙ্গুড়ায় অর্থাভাবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের দূর্গাপূজা অনিশ্চিত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে উপজেলার একমাত্র আদিবাসী সম্প্রদায়ের দূর্গাপূজা উদযাপন অর্থের অভাবে এবছর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজার আর মাত্র চারদিন বাকি থাকলেও এ সম্প্রদায়ের পূজাম-পে এখনো দূর্গাপূজার প্রতিমা কেনা হয়নি।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন ও গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে হিন্দু ধর্মালম্বী আদিবাসী সম্প্রদায়ের ১৫টি হতদরিদ্র পরিবার বসবাস করে। দশ বছর পূর্বে ঐ পরিবারগুলো সেখানে কোনো ধরণের পূজা-পার্বণ উদযাপন করতো না। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সরকারি ও স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগীতায় ঐ সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা-অর্চনা শুরু করে। কিন্তু এবছর এখন পর্যন্ত কোন আর্থিক সহযোগিতা না পেয়ে সম্প্রদায়টির পূজা উদযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আদিবাসী সম্প্রদায় ও ঐ মন্দির কমিটির সভাপতি জ্ঞ্যানেন্দ্র মুরারির অভিযোগ, সুলতানপুর মৌজায় দশটি খাস জলাশয় বার্ষিক ৩০ লক্ষাধিক টাকায় ইজারা দেয় গ্রামের প্রধানবর্গের সমন্বয়ে একটি গ্রাম কমিটি। ইজারার অর্থ এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। ঐ অর্থ থেকে প্রতি বছর দূর্গাপূজা উপলক্ষে ৫০ হাজার টাকা আদিবাসী সম্প্রদায়কে দেয়া হতো। সে টাকা দিয়ে গত নয় বছর ধরে তারা দূর্গাপূজা করে আসছিল। কিন্তু এবছর গ্রামের প্রধানবর্গ সে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এতে অর্থের অভাবে এবছর তারা পূজা করতে পারছেনা। এখন গ্রাম প্রধানদের কাছে টাকা চাইলে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখান।
অভিযোগের বিষয়ে গ্রাম কমিটির কোষাধক্ষ্য আঙ্গুর হোসেন জানান, ইজারার অর্থ গ্রাম উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। তবে কিছু অর্থ তার কাছে আছে। সভাপতি অনুমোদন দিলে আদিবাসী সম্প্রদায়কে সে টাকা দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে গ্রাম কমিটির সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের কাছে লিখিত আবেদন করে অর্থ না চাওয়ায় এবছর টাকা দেওয়া হয়নি। তবে শীঘ্রই হিসাব-নিকাশ শেষে তাদেরকে টাকা দেয়া হবে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সুলতানপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেনে আমি উভয় পক্ষকে দ্রুত সমাধান করতে বলেছি।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক আনন্দ গোস্বামী বলেন, বিষয়টি আমরা বিভিন্ন দপ্তরকে জানিয়েছি। দেখি তারা কি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, বিষয়টি জেনে খানমরিচ ইউনিয় ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা সদর উদ্দিনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author