Main Menu

৩০ মণ ভেজাল ঘি জব্দ, মূল অপরাধীরা অধরা

ভাঙ্গুড়া অফিস:

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া (কুঠিপাড়া) এলাকার একটি বাড়ির ভেতর থেকে ৩০ মণ ভেজাল ঘি এবং ঘি তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এর সঙ্গে জড়িত মালিক পক্ষের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাছুদুর রহমান সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান পুলিশ ফোর্স সঙ্গে নিয়ে পৌর সদরের সরদারপাড়া (কুঠিপাড়া) এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান শুরু করেন। অভিযানে সেখান থেকে ৩০ মণ ভেজাল ঘি এবং ঘি তৈরির উপাদান ৬০ কার্টুন পুষ্টি ডালডা, দুই মণ ঘিয়ের ডাস্ট (পাউডার) ও পাঁচ ড্রাম পামওয়েল জব্দ করা হয়।

তবে অভিযানের আগেই কারখানার মালিক শামছুল আলম (৪৫) ও তার সহযোগী জামাতা শহিদুল ইসলাম (২৮) সহ বাড়ির মালিক শাহ আলম (৪০) পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই কারখানার প্রধান কারিগর সাইদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এতে পাশের আরেকটি বাড়িতে শামছুল ভেজাল ঘি তৈরির আরো উপাদান রেখেছে বলে সন্ধান দেয় সাইদুল।

কিন্তু সেটি তালাবদ্ধ থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান আইনি জটিলতার কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় কারখানায় অভিযান না চালিয়ে রাত নয় টার দিকে স্থান ত্যাগ করেন। পরে জব্দকৃত মালামাল পৌরসভার ট্রাকে করে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে জমা করা হয়। সেখানে ইউএনও’র উপস্থিতিতে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযান শেষে রাত ১০টার দিকে কারখানার প্রধান কারিগর সাইদুল (৪০) সহ শ্রমিক মিলন (৩৮), বৃষ্ট পদ (৬০), রজব (৫৮), কামরুল (৩৮) ও জীবন (৩০) প্রত্যেককে একমাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তাদেরকে সোমবার রাতে ভাঙ্গুড়া থানা হেফাজতে রেখে মঙ্গলবার পাবনা কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানায় অভিযানে অংশগ্রহণকারী এএসআই সাজেদুল ইসলাম।

এদিকে এ ঘটনার মূল হোতা কারখানার মালিক শামছুল আলম ও বাড়ির মালিক শাহা আলমের বিরুদ্ধে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান জানান, যেহেতু মূল হোতাদের স্পটে পাওয়া যায়নি। তাই তাদেরকে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেয়া যায়নি। তবে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। তাছাড়া তাদেরকে ধরতে পুলিশকে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।