চাটমোহর ডিগ্রী (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুদক

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এইচ এসসি পরীক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রীদের নিকট থেকে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এর প্রতিবাদে দোলং গ্রামের ছাত্রী রাবেয়া খাতুন কর্তৃক তৎকালীন ইউএনও বরাবর অভিযোগ করা, রাবেয়ার স্বামী রিপনকে কলেজে ডেকে নিয়ে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে ফেসবুকে চাটমোহর ডিগ্রী অনার্স কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লেখা লেখি করার অভিযোগে রিপন ও রেজাউল করিম পলাশ নামক অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে হয়রানী করা ও কলেজে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক, কয়েকটি বাড়ি ও মার্কেটের মালিক হওয়ায় এবং নামে বেনামে স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালান্সসহ নানা রূপ সম্পত্তির মালিক হওয়ায় চাটমোহর ডিগ্রী অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমানের নামে উপ-পরিচালক দূর্ণিতী দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনা বরাবর রাবেয়ার স্বামি রিপন কর্তৃক দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছাত্রীদের এইচ এসসি ফরম পূরণের সময় রাবেয়া খাতুনের নিকট থেকে ৬ হাজার ৮শ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেন অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান। এর প্রতিবাদে ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে অতিরিক্ত পরীক্ষা ফি আদায়ের প্রতিকার চেয়ে চাটমোহরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেহেলী লায়লা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন রাবেয়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান এ অভিযোগের তদন্ত করেন। তদন্তে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হয়। তিনি এ তদন্ত প্রতিবেদন অগ্রগামী করলে ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কলেজ শাখা থেকে সিনিয়র সিষ্টেম এনলিষ্টকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পত্রে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে পরবর্তী বিশ দিনের মধ্যে মন্ত্রনালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে চাটমোহরে দুদকের গন শুনানী কালে এ বিষয়টি ব্যাপক ভাবে আলোচনায় আসে। বিষয়টি ব্যাপক ভাবে আলোচনায় আসায় ও অভিযোগ হওয়ায় ব্যাপারটি আমলে নেয় দুদক। ইতিমধ্যেই দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন। সূত্র মতে, দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। যাচাই বাছাই পূর্বক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা রুজুর সুপারিশ করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। প্রধান কার্যালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দিবেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীণ থাকায় বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author