লেভেল প্লেইং ফিল্ড আছে বলেই নির্ভয়ে সবাই ভোটের মাঠে :সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রার্থীরা নির্ভয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা, সভা, সমাবেশ করছে। কেউ বাধা দিচ্ছে না। প্রার্থীরা সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেশি। ফলে সেনাবাহিনী নামার পর পরিবেশ আরো ভালো হবে। নিরপেক্ষ ভাবে সকলের প্রতি সমান দৃষ্টি রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি নূরুল হুদা আরো বলেন, এবার ১ হাজার ৮৪৬ জন প্রার্থী রয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি আসনে গড়ে ৬ জন প্রার্থী। ফলে উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। তবে হিংসাত্মক কার্যক্রম নয়। প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে যাতে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে সে জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অতীতে অনেক নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে আপনাদের নির্বাচনের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন কাজের নীতিমালার সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। আর মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হয়। ফলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

সিইসি বলেন, অনেক জাতীয় নেতা আমার কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন, প্রেসে তাদের পোস্টার ছাপাতে দেয়া হচ্ছে না। প্রেসের মালিককে বাধা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রেসে অভিযোগ প্রমাণে যেতে চেয়েছি। তখন অভিযোগকারী বলেন, তাহলে পরে প্রেস ভাঙচুর বা বন্ধ করে দেয়া হবে। আমরা প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ১২২টি কমিটি করেছি। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ নির্বাচন করতে চাই যাতে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে কেন্দে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। প্রার্থীরা সকলেই যেন সমান সুযোগ-সুবিধা পায়। ভোটার, ভোটের মালামাল ও ভোট কেন্দ যাতে নিরাপদে থাকে। সহিংসতা, প্রাণহানি চাই না। প্রশাসনের কেনো কর্মকর্তা যাতে অতি উত্সাহী হয়ে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন না করেন সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের করণীয় বিষয় তুলে ধরে বলেন, রোহিঙ্গারা যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে। ক্যাম্পগুলো সিল করে দিতে হবে। প্রার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্যতীত সকল বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হবে। যে কোনো ধরনের গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় মাঠ পর্যায়ের প্রায় ২২ জন কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন। এর আগে সিইসি একই দিন রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনিস্টিটিউটে নির্বাচন উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author