Main Menu

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ডিআইজি ওয়াই এম বেলালুর রহমানের পুলিশ পদক গ্রহণ

ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) সেবা গ্রহন করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)-এর কমিশনার ও বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ডিআইজি, পাবনার কৃতীসন্তান ওয়াই এম বেলালুর রহমান।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে ওয়াই এম বেলালুর রহমানকে এই পদক আনুষ্ঠানিকভাবে পড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই অনুষ্ঠানে ৩৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক-পিপিএম এবং বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

পদক গ্রহনের পর পুলিশ সুপার ওয়াই এম বেলালুর রহমান বিপিএম (সেবা) তার ব্যাক্তিগত ফেইসবুকে অনুভুতি প্রকাশ করে পুলিশ সপ্তাহ, ২০১৯ এর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজহাতে এই পদক পরিয়ে পরিশ্রম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দায়িত্বপরায়ণতার যে স্বীকৃতি আজ দিলেন সেজন্য আকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা। সবসময়ের জন্য এই পদকপ্রাপ্তি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সুযোগ্য কমিশনার, সততা ও নিষ্ঠার বিমূর্ত প্রতীক, গাজীপুরের অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সদা জাগ্রত, জনাব ওয়াই এম বেলালুর রহমান মহোদয় এর বিপিএম সেবা পদক প্রাপ্তিতে আমরা “টিম-জিএমপি” গর্বিত ও আনন্দিত। মাননীয় কমিশনার এই পদক মেট্রোপলিটনের সকল সসদস্যগণকে উৎসর্গ করেছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ” এই পদক মেট্রোপলিটন পুলিশ এর প্রতিটি সদস্য পেয়েছে ; টিম- জিএমপি পেয়েছে। ” তিনি আগামী দিন গুলোতে সকলকে নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)-এর কমিশনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘ধন্যবাদ আমার পরিবারের সদস্যদের যারা আমার ব্যস্ততম সময়েও নিরবিচ্ছিন্নভাবে উৎসাহিত করেছে, সার্বক্ষণিকভাবে সমর্থন দিয়েছে আমার পেশাগত কাজে৷ আমার সহকর্মীরা যারা প্রতিনিয়ত আমার পরিকল্পনা ও নির্দেশ সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন তাদেরকেও জানাচ্ছি ধন্যবাদ। শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা, সহযোগীতা ও অনুপ্রেরণার জন্য। পরবর্তী জীবনেও একইভাবে দেশ ও জনগনের সেবায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারকে আরো বেগবান করবে এই পদকপ্রাপ্তি।’

পনেরোতম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ ক্যাডারের জন্য নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া পাবনার এই কৃতীসন্তান সহকারী পুলিশ সুপার পদে বিএসএসএফ (পিএম অফিস), সিএমপি, খাগড়াছড়ি, আরএমপি অফিস; পুলিশ সুপার পদে খুলনা জেলা, এআইজিপি (টেলিকম)- রাজারবাগ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পূর্ব তিমুর এবং আইভরিকোস্টে এবং নওগাঁ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর যুগ্ম কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)-এর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পাবনা জেলার কৃতি সন্তান ওয়াই এম বেলালুর রহমান ব্যক্তি জীবনে  দুই ছেলে সন্তানের জনক। তাঁর সহধর্মিণী ডা: প্রথমা রহমান সিদ্দিকী । বর্তমানে তিনি হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঢাকায় কর্মরত।

পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে পৈতৃক নিবাস হলেও বেলালুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন পিতার কর্মস্থল বগুড়ায়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক দেলমাহমুদ (১৯৩৯-২০১৬) ও রত্নগর্ভা মা জসিমন মাহমুদ (১৯৪৫-২০১৬) দম্পতির ৬ সন্তানের কনিষ্ঠ সন্তান হলেন ওয়াই এম বেলালুর রহমান। দেলমাহমুদ ও জসিমন মাহমুদের বড় সন্তান প্রফেসর ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নিয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, দ্বিতীয় সন্তান মেজর জেনারেল ফসিউর রহমান; এনডিসি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক চিকিৎসা মহাপরিদফতরের মহাপরিচালক, তৃতীয় সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন প্রেষণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দফতরে এবং পঞ্চম সন্তান কৃষিবিদ এ এইচ এম জাকির হোসেন হেলাল ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তা। একমাত্র কন্যা সন্তান (চতুর্থ সন্তান) দেলেয়ারা মাহমুদ (১৯৬৭-২০১২) বগুড়া জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। কর্মজীবনের সর্বত্র সকল ভাই-বোনেরা সততার স্বাক্ষর রেখেছেন।