Main Menu

রাজশাহীতে অপারেটরকে ফাঁসাতেই ফসল হানির মামলা

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরে বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামকে ফাঁসাতেই দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি পূরণের মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। চলতি মাসের ৭ফেব্রুয়ারি কামারগাঁ ইউপি এলাকার ধানোরাগ্রামের আ”লীগপন্থী আলু চাষি আজিজুল ইসলাম বাদি হয়ে জেলার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত -৫ মামলা দায়ের করেন ।এতে করে উভয়ের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা।জানা গেছে উপজেলার কামারগাঁ ইউপি এলাকার ধানোরা গ্রামের ও ধানোরা মৌজার যেএলনং ২৭২ আরএস খতিয়ানে এবং আরএস ১৬৪৭নং দাগে ১ একর ৬০ শতাংশের জমির আলুর ক্ষতি হয়েছে মর্মে একই গ্রামের বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর ইউপি যুবলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীকে আসামী করে চলতি মাসের ৭ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল আমলী আদালত ৫-এ মামলা দায়ের করেন । বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলীকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেন । সরেজমিন দেখা যায় উপজেলা থেকে চৌবাড়িয়া রাস্তার মাদারিপুর বাজারের দক্ষিনে মুল রাস্তার পশ্চিমে রেজাউলের রয়েছে ৫ বিঘা আলুর জমি। সেই আলুর জমিতে বেশ কিছু শ্রমিকরা আলুর গাছ তোলার কাজ করছেন । আশেপাশের জমির গাছগুলো রয়েছে তরতাজা । তবে চাতাল সংলগ্ন ড্রেন ঘেঁষে প্রায় ১০ কাঠা আলুর জমির একাধিক পকেটের গাছ লালচে ভাব দেখা যায় । এর আগে গত মাসের ১৭ জানুয়ারি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ১৬৫৫নং দাগের অপারেটর রেজাউল ইসলাম । তিনি অভিযোগে উল্লেখ অভিযোগ দেবার আগের দিন ১৬ জানুয়ারি গভীর নলকূপের সরকারী ড্রেন পূর্ব শুক্রতার জের ধরে আলু চাষি আজিজুল ইসলাম গভীর নলকূপের সরকারী ড্রেন ফুটো করে দেন। গত মাসের ১৮জানুয়ারি ফুটো ড্রেন দিয়ে পানি নামানোর সময় আজিজুলের জমিতে অতিরিক্ত পানি ঢুকে পড়ে। সেই পানি দেবার বিষয়টি ফেসবুকে তুলে দেন আজিজুলের ভাই মজিদ। ঘটনার প্রায় এক মাস পর গত ২০ফেব্রুয়ারি গভীর নলকূপের অপারেটর রেজাউল ইসলাম দাবি করে বলেন আজিজুল ও তাঁর ভায়েরা পূর্ব শুক্রতার জেরে নিজেরাই ড্রেন ফুটো করে আমাকে ফাঁসাতে অন্যের জমিতে পানি দেবার সময় ইচ্ছে করে নিজের জমিতে পানি নামিয়েছে।সব কিছু ছিল তাদের পরিকল্পিত । তাঁর আলুর কয়েক পকেট ছাড়া ক্ষতিই হয়নি । তিনি আমাকে ফাঁসাতে ঘটনার দীর্ঘ দিন পর আদালতে ২লক্ষ টাকার ক্ষতি পুরনের মামলা করেন । তিনি আরো বলেন এখন জমি থেকে গাছ তুলছেন আজিজুল । তাঁর জমি দেখে যদি কোন কর্মকর্তা বলেন তাঁর প্রায় পাচ বিঘা জমির আলু বা ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে আমি দ্বিগুন দিতে প্রস্তুত। তাঁরা আমার স্ত্রীকেও মামলার আসামী করেছেন ।আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান । এসব ঘটনার আগে আজিজুলের ভাই মজিদ আমার কাছে চাঁদা চাই। দিতে না চাইলে নানা হুমকি দেয় তাঁরা। বাধ্য হয়ে মামলা করি । মামলায় মজিদ জেলও খেটেছেন এরই জেরে ফসল হানির মিথ্যা ঘটনা দিয়ে আমার ও স্ত্রীর নামে মামলা দায়ের করেছেন । তবে কৃষক আজিজুলের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি । বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন তদন্ত করে সঠিক হবে যেটা সে মর্মেই প্রতিবেদন দেয়া হবে মহামান্য আদালতকে।