Main Menu

পাবনায় হিন্দু পল্লীর মানুষের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করেছে প্রভাবশালী দখলদাররা

রনি ইমরান পাবনা :
পাবনায় তিন শত হিন্দু পরিবারের প্রায় এক হাজার মানুষের বসবাস নিয়ে গড়ে ওঠা হিন্দু পল্লিতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার জমি দখল করে প্রভাবশালী মহল নির্মান করেছে বসত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রাস্তা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে এই হিন্দু পল্লীর বাসিন্দারা। রাস্তার জন্য প্রশাসনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
পাবনা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিঃমিঃ দূরে বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার নগড়বাড়ি ফেরীঘাট ও নৌবন্ধর। এক সময়ের উত্তর ও দক্ষিনবঙ্গের মানুষের সড়ক পথে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম পথ হিসাবে পরিচিত ছিল এই নগড়বাড়ী ফেরীঘাট। ঐতিহ্যবাহী সেই ঘাট সংল্গন হরিনাথপুর গ্রামের হিন্দু পল্লীতে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। এই গ্রামে নদীর ধারে বসতী ছিলো এই হিন্দু পল্লীর পূর্ব পুরুষদের। যমুনা নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে সর্বশান্ত হয়ে এ গ্রামে এলে তৎকালিন জমিদারের আঞ্চলিক কর্তা হরিন্দ্র নাথ সাহা ও উপেন্দ্রনাথ সাহা দুই ভাই তাদের পুকুর চালাতে থাকতে দেন নদী ভাঙ্গা এই মানুষদের। আশ্রুয়দাতাদের নামে জায়গাটির নামকরন হয় হরিনাথপুর গ্রাম। সেই গ্রামের পুকুর চালায় হিন্দু বসতিদের যাতায়াতের রাস্তা দখল করে বসত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান করেছেন এলাকার প্রভাবশালী দুইজন ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও আব্দুল আওয়াল মিঞা।
হরিনাথপুর গ্রামে ১৯৬০ সাল থেকে বসবাস করছেন এই সনাতনী ধর্ম অনুসারী মানুষ গুলো। জনসংখ্যার দিক থেকে এই পল্লীতে ভোটার রয়েছে ৬শত। স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় দুইশত জন। দুই ঘরের মাঝে সুরু চাপা সামান্য একফিট জায়গা দিয়ে কোন রকমে যাতায়াত করতে হয় হিন্দু পল্লীর মানুষদের। পূজা পার্বন থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান সব কিছুই করতে হয় গন্ডির মধ্যে। এমনকি সার্বজনিন স্বারদীয় দূর্গউৎবের ঠাকুর বির্সজন দিতে হয় মন্দিরের সামনের পকুরে। রাস্তা না থাকার কারনে অনেক প্রসুতি নারী, বৃদ্ধা অসুস্থ্য হয়ে পরলে চিকিৎসা গ্রহণ করতে যেতে পারে না। রাস্তা না থাকায় গর্ভকালীন প্রসুতী মায়ের চিকিৎসা নিতে হয় নিজ বাড়িতে।
হিন্দু পল্লীর সমাজ প্রধান জগনাথ শীল জানান, প্রায় ষাট বছর ধরে এই জায়গাতে আমরা বসবাস করছি। আগে এই পুকুর চালা থেকে বের হওয়ার অনেক জায়গা ছিলো। নদীর একটি নালার সংযোগ ছিলো এই পুকুরের সাথে। আর নালার পাশ দিয়ে বেশ বড় যাতায়াতের রাস্তা ছিলো। দখলদার প্রতিবেশিরা ঘর নির্মানের সময় তাদেরকে অনেক অনুরোধ করলেও তারা আমাদের কথার কোন গুরুত্ব দেয়নি। বহুবার স্থানিয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েছি কোন সমাধান পাইনি। তবে সম্প্রতি হিন্দু পল্লীর একটি প্রতিনিধি দল পাবনা জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করলে তিনি সমস্যার কথা শুনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।
রাস্তা দখল করে বসত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মানকারী এলাকার প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম ও আব্দুল আওয়াল মিঞা এব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয় নাই। তবে এক পর্যায়ে তারা বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দেয় আমরা তা মেনে নেব।
এই বিষয়ে স্থানীয় পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ.এম. রফিক উল্লাহ জানান, জায়গাটি আমাদের এই গ্রামের চারজনের জায়গা। দীর্ঘদিন ধরে এই পুকুর চালাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুস এখানে বসতি স্থাপন করে আছে। তাদের যাতায়াতের রাস্তার বিষয়ে আমি জানি তবে বহুবার দখলদারদের সাথে আলাপ করেছি তারা সমাধানে আসেননি। তবে সম্প্রতি পাবনা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। আশা করছি রাস্তাটির বিষয়ে একটি সমাধান হবে। দখলদাররা একটু সময় চেয়েছেন।
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিফ বিন আনাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, ইউনিয়ন তহশিলদারকে সরেজমিন তদন্ত করে দুই দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা ছিলো না। গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত হয়েছি। হিন্দু পল্লীর বাসিন্দারা আমার কাছে রাস্তার বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছে। বিষয়টি সত্যিই অমানবিক। রাস্তার জন্য মানুষ অমানবিক জীবন যাপন করবে এটি এই সরকার কখনো সমর্থন করে না। বিষটি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। খাস জমি দখল করে রাস্তা বন্ধ করলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবশ্যই এই হিন্দু পল্লীর মানুষের যাতায়াতের জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করা হবে।