ভাঙ্গুড়ায় ভাই বিষ দিলো বোনের পুকুরে

সিরাজুল ইসলাম আপন: সীমানাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাইয়ের দেওয়া কীটনাশকে একটি পুকুরের প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে নূর নাহার (৪৫) নামে এক নারী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ওই নারী তার চাচাতো ভাই মিজানুর রহমানকে অভিযুক্ত করে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। তবে পুকুরে বিষ প্রয়োগকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী নূর নাহারের মালিকানাধীন ২ বিঘা আয়তনের একটি পুকুরের সীমানা নিয়ে তার চাচাতো ভাই মিজানুর রহমানের সাথে গত দুই মাস ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধ মেটাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ অন্যান্য গ্রাম্যপ্রধানরা একাধিকবার এই বিষয়ে সালিস করেছেন। কিন্তু কয়েকবারই সালিসের রায় মিজানুরের বিপক্ষে যাওয়ায় সে রায় প্রত্যাখান করে ওই বিরোধপূর্ণ জায়গা জবরদখলের চেষ্টা চালান। নিরুপায় হয়ে নূর নাহার চলতি মাসের ২ তারিখে জায়গা রক্ষায় মিজানুরের বিরুদ্ধে পাবনা জজ আদালতে মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর সোমবার রাতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন। পরদিন দুপুর থেকে পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। সন্ধ্যায় পুকুরে চাষ করা বিক্রির উপযোগী রুই, কাতলা, সিলভারকার্প ও মিনারকার্প সহ প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে ওঠে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার বোন ও ভগ্নিপতির বাড়ির লোকজন নিজেরাই পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলেছে। এখন মরা মাছ নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুকুরের পাড়ের জায়গা নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সালিস করেও সমাধান করা যায়নি। এ ঘটনায় তাদের বিরোধ মেটানো আরো কঠিন হয়ে গেল।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে একজন বোন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে পুকুরে বিষ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author