Main Menu

পরিবেশে বিরুপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বড়াইগ্রামে কৃষি জমিতে অবাধে চলছে পুকুর খনন

অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম (নাটোর)
বড়াইগ্রামে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৃষি জমিতে অবাধে চলছে পুকুর খনন। গোটা উপজেলা জুড়ে কৃষি জমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ চললেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। নামে মাত্র কিছু অভিযান চললেও রাতদিন অবাধে চলছে পুকুর খনন। এতে শুধু কৃষি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশের উপরও বিরুপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক-মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবী, পুকুর খনন বন্ধে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস নিজে অভিযান চালানোসহ উপজেলা জুড়ে মাইকিং করিয়েছেন, কিন্তু তাতেও বন্ধ হয়নি এ তৎপরতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুড়–মশৈল বিলে বনপাড়া বনলতা অটো ব্রিক্সের মালিক সামসুল মল্লিক তার নিজের ছয় বিঘাসহ কৃষকের কাছ থেকে লিজ নেয়া আরো ছয় একর জমির সবুজ ধান কেটে তিনটি এস্কেভেটর গাড়ী দিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় উপজেলার জোয়াড়ী, কেল্লা, আহম্মেদপুর, কামারদহ, আগ্রান, পারকোল, রাজাপুর, মহানন্দগাছাসহ জেলা প্রশাসন ঘোষিত পদ্মবিল খ্যাত পর্যটন স্পট চিনাডাঙ্গার বিলে অবাধে পুকুর খনন চলছে। তিন ফসলী জমি ছাড়াও অনেকেই ভিটেমাটি ও আম-লিচুর বাগান কেটে পুকুর খনন করছেন। এছাড়া কদমচিলান, সেকচিলান, পানঘাটা এলাকায় কৃষি জমিতে দেদারছে পুকুর খনন চলছে। এসব পুকুর খননে কমপক্ষে ৬০-৭০ টি এস্কেভেটর নিয়োজিত রয়েছে। পুকুরপাড় চিলান গ্রামের ইয়াকুব আলী তার ১৫ বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর খনন করে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন। লাইসেন্সবিহীন ট্রাক্টর দিয়ে এসব পুকুরের মাটি বহনে সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে এসব রাস্তাঘাটের ক্ষতি হচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব ট্রাক্টর চালকদের অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এদের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি চালানোর বৈধ কাজ কাগজপত্র নেই।
এ ব্যাপারে ইউএনও আনোয়ার পারভেজ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় কৃষি জমিতে খনন বন্ধ করতে পুকুর মালিক ও চালককে জেল-জরিমানা করাসহ গাড়ীর ব্যাটারী জব্দ করা হয়েছে। কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।