Main Menu

পাবনার গৃহবধূ মিম অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন

১৭ দিন অসহ্য কষ্ট যন্ত্রণা ভোগ করার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার পাবনার গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার মিম। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার (০৭ জুন) তিনি মারা যান।

মারা যাওয়া মিম পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার দড়িসারদিয়ার গ্রামের আব্দুল মমিন মন্ডলের মেয়ে এবং একই থানার রাজাইমন্ডল গ্রামের পল্লী চিকিৎসক পিন্টু গ্রামাণিকের স্ত্রী।

মিমের স্বজনরা জানান, ১০ বছর আগে আতাইকুলা থানার দড়িসারদিয়ার গ্রামের চকির গ্রামাণিকের মেয়ে মিমকে পল্লী চিকিৎসক পিন্টু গ্রামাণিকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিসহ নানা কারণে তাকে স্বামী পিন্টুসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ মে রাতে গৃহবধু মিমকে তার স্বামী পিন্টুসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন বেধড়ক মারধর করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে আবারো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবশেষে ১৭ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মারা যায় গৃহবধু মীম।

এ ঘটনায় মিমের বড় ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে স্বামী পিন্টুসহ ছয়জনকে আসামি করে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন। কিন্তু এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

আতাইকুলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মিমের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আসামিরা পলাতক রয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম তাদের ধরতে মাঠে রয়েছে। যেকোনো সময় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগে যে মামলা করা হয়েছে সেটি হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন উল্লেখ করায় মিম মারা যাওয়ায় নতুন করে মামলার প্রয়োজন নেই। এই ধারাতেই মামলা চলবে।