Main Menu

থ্যাংক ইউ স্যার ; প্রিয় গুরুকে সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ ‘থ্যাংক ইউ স্যার’ সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলে বার্তাটি পেয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রায় ৮ হাজার ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে পাওয়া বার্তাটি সালাউদ্দিনের মনে বইয়ে দিয়েছে আনন্দের ফোয়ারা। ইংল্যান্ড থেকে বার্তাটি যে এসেছে প্রিয় শিষ্য সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে। গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের অসহায়ত্বের ম্যাচে বুক চিতিয়ে একাই লড়েছে তাঁর ছাত্র সাকিব। আর এই জ্বালানিটা তো ‘স্যার’ সালাউদ্দিনের কাছ থেকেই পাওয়া। তাই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির পর কোচকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো।

সাকিব-সালাউদ্দিনের সম্পর্কটা নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) ছাত্র ছিলেন আজকের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। সালাউদ্দিন সেখানকারই কোচ। সাকিবের গড়ে ওঠার পেছনে তাই গুরুর ভূমিকা স্মরণীয়। যেন শচীন টেন্ডুলকার আর রমাকান্ত আচরেকার। সাকিব-সালাউদ্দিনের রসায়নটা ঠিক তেমনই। যত বড় কোচের অধীনেই সাকিব থাকুন না কেন, সালাউদ্দিনের সঙ্গে সাকিবের দেখা করা চাই-ই। সেটা খারাপ সময় হোক কিংবা ফর্মের উত্তুঙ্গ অবস্থাতেই হোক। সাকিবের যেন প্রিয় ‘স্যার’কে ছাড়া চলেই না!

এবারের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে সাকিব বিশেষ প্রস্তুতিই নিয়েছেন। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। সে সময়েও সাকিবকে অনুশীলন করাতে ভারত গিয়েছিলেন সালাউদ্দিন। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির অনুশীলনের মধ্যেই সাকিবকে আলাদা করে অনুশীলন করাচ্ছেন তাঁর স্যার—ব্যাপারটা সত্যিই ছিল দুর্দান্ত। সে প্রস্তুতিটা যে বিশেষ কাজে এসেছে, সেটি বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে সাকিবের পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৫, দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৪ আর গতকাল কার্ডিফে অনবদ্য ১২১। এই সাকিবের চোখে অনেক বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি এগোচ্ছেন দুর্দান্ত গতিতে। ২৬০ রান করে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের দৌড়ে আপাতত আছেন সবার ওপরে।

সাকিব যে এবার বিশ্বকাপে চমক দেখাবেন, তা আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন কোচ সালাউদ্দিন। এর পেছনে কোনো রহস্য নেই। শুধু ভালো করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও পরিশ্রমেই সম্ভব হয়েছে বলে জানালেন সালাউদ্দিন, ‘আমি বলব, বিশ্বকাপের জন্য সাকিব খুবই ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা যখন ভারতে ছিলাম, তার পুরো মনোযোগ ছিল বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে কোন ধরনের বল খেলতে হবে, এ জন্য প্রচুর শর্ট বল খেলার অনুশীলন হয়েছে সেখানে। এ ছাড়া ইংলিশ কন্ডিশনে কীভাবে স্পিন সামলাতে হবে, তা নিয়েও হয়েছে বিশেষ অনুশীলন।’

ভারতে সাকিবের সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ ছিলেন সালাউদ্দিন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অনুশীলন বাদ দিলে সাকিবের প্রতিদিনের রুটিনটাও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কোচের হাত দিয়েই তৈরি, ‘সাকিবের পুরো মনোযোগ ছিল বিশ্বকাপে। ও শুধু আমাকে বলত বিশ্বকাপের জন্য সর্বোচ্চ ভালো প্রস্তুতি চাই স্যার। আমি সেভাবেই চেষ্টা করেছি।’
শুধু টেকনিক্যাল বিষয়েই নয়, মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি সারতেও সাকিবের সব সময়ের ভরসা যে সালাউদ্দিনই।



Comments are Closed